মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফের বড় ধাক্কা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। একদিকে ইরান-সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত, অন্যদিকে এবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মন্দেব প্রণালীর কাছে কৌশলগত এলাকা দখল করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফের বড় ধাক্কা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। একদিকে ইরান-সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত, অন্যদিকে এবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মন্দেব প্রণালীর কাছে কৌশলগত এলাকা দখল করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ আরও বাড়ল। সৌদি আরবের East-West oil pipeline-এ ড্রোন হামলার পর সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রকের বক্তব্য, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়েছে। প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেয়। এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হল হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রফতানির একটি বিকল্প পথ তৈরি করে এই পাইপলাইন। সাম্প্রতিক সময়ে এই লাইনে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহণ হচ্ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এবার বাব আল-মন্দেবেও বাড়ছে বিপদ
শুধু হরমুজ নয়, এবার নজর বাব আল-মন্দেব প্রণালীর দিকেও। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী কৌশলগত পেরিম বা মায়ুন দ্বীপ দখল করেছে বলে একাধিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। বাব আল-মন্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই জলপথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য এবং জ্বালানি পরিবহণ হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং তেল সরবরাহ দুটিই প্রভাবিত হতে পারে।
ভারতের জন্য কতটা বড় চিন্তার?
ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য পরিস্থিতি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ইতিমধ্যেই ব্যাহত হওয়ার পর সৌদির বিকল্প পাইপলাইন এবং লোহিত সাগর-বাব আল-মন্দেব রুটও যদি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে এশিয়ায় তেল পৌঁছনোর ক্ষেত্রে চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হলে অপরিশোধিত তেলের দামও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আমদানি খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর। ফলে ভারতের ক্ষেত্রে পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার দাম নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
একসঙ্গে চাপে দুই গুরুত্বপূর্ণ রুট
বিশেষজ্ঞদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল—হরমুজ প্রণালী এবং বাব আল-মন্দেব, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথই এখন সংঘাতের প্রভাবে ঝুঁকির মধ্যে। এর পাশাপাশি সৌদির East-West pipeline-ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত না কমলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। আর তার প্রভাব ভারত-সহ বিশ্বের তেল আমদানিকারক দেশগুলির উপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


