- Home
- Business News
- Financial Planning: নিজের বাড়ি বা সন্তানের পড়াশোনা? খরচ কমিয়ে জমানোর ৪টি সেরা ফর্মুলা!
Financial Planning: নিজের বাড়ি বা সন্তানের পড়াশোনা? খরচ কমিয়ে জমানোর ৪টি সেরা ফর্মুলা!
ফিনান্সিয়াল প্ল্যানিংয়ের ক্ষেত্রে সঞ্চয়কারীদের সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো— অ্যাগ্রেসিভ বা চরম সঞ্চয়কারী, মডারেট বা মাঝারি সঞ্চয়কারী এবং লাইফস্টাইল বা জীবনযাপন-কেন্দ্রিক সঞ্চয়কারী।

মাসে কত টাকা জমানো উচিত?
মাসের বেতন থেকে ঠিক কত টাকা জমানো উচিত? ফিনান্সিয়াল প্ল্যানিং শুরু করার সময় এই প্রশ্নটা সবার মাথাতেই ঘোরে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সঞ্চয়কারীদের লক্ষ্য অনুযায়ী মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করেন— অ্যাগ্রেসিভ সেভার্স (Aggressive savers), মডারেট সেভার্স (Moderate savers) এবং লাইফস্টাইল-ফোকাসড সেভার্স (Lifestyle-focused savers)।
অ্যাগ্রেসিভ সঞ্চয়কারীরা বর্তমানের খরচের চেয়ে ভবিষ্যতের সম্পদ তৈরি এবং দ্রুত আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেন। মডারেট সঞ্চয়কারীরা বর্তমানের লাইফস্টাইল এবং ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের মধ্যে একটা ব্যালেন্স রাখেন। অন্যদিকে, লাইফস্টাইল-ফোকাসড সঞ্চয়কারীরা 'ইউ অনলি লিভ ওয়ান্স' (YOLO) বা 'জীবন একটাই'-এই নীতিতে বিশ্বাস করেন। তাই তারা ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানের স্বাচ্ছন্দ্যকেই বেশি প্রাধান্য দেন।

সঞ্চয়কারীদের ৩টি ধরন
অ্যাগ্রেসিভ সেভার্স (Aggressive savers):
এদের মূল লক্ষ্য হলো হাই-রিস্ক বা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এবং কড়া বাজেটের মাধ্যমে দ্রুত মূলধন বাড়ানো। মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশনকে টেক্কা দিয়ে বেশি লাভের আশায় এরা আয়ের বড় অংশই জমিয়ে রাখেন। বর্তমানের লাইফস্টাইলের চেয়ে ভবিষ্যতের মূল্যায়নই এদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মডারেট সেভার্স (Moderate savers):
নিজের বাড়ি কেনা বা সন্তানের পড়াশোনার মতো মাঝারি মেয়াদের লক্ষ্য পূরণে এরা কাজ করেন। দৈনন্দিন খরচের টাকা হাতে রেখেই এরা ধীরে ধীরে সম্পদ বাড়ান।
লাইফস্টাইল-ফোকাসড সেভার্স (Lifestyle-focused savers):
এরা নিজেদের রোজকার বিলাসবহুল খরচ খুব একটা কমান না। ভবিষ্যতের জন্য শুধু একটা নির্দিষ্ট বেসিক ফান্ড জমিয়ে রাখাই এদের মূল লক্ষ্য।
নিজের সঞ্চয়ের ধরন বুঝবেন কীভাবে?
বর্তমানের আরাম নাকি ভবিষ্যতের সম্পদ— আপনি কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই আপনার সেভার প্রোফাইল (Saver profile) তৈরি হয়। এর জন্য নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন:
আপনি কি দ্রুত আর্থিক স্বাধীনতা চান? তাহলে হাই-রিস্ক বিনিয়োগ, কড়া বাজেট এবং আয়ের ৩০-৫০% জমানোর জন্য তৈরি থাকুন (অ্যাগ্রেসিভ)। আপনি কি মাঝারি মেয়াদের লক্ষ্য পূরণে ২০-৩০% সঞ্চয় এবং মাঝারি ইক্যুইটি (Equity) বিনিয়োগের ব্যালেন্স চান (মডারেট)?
নাকি লাইফস্টাইলের সঙ্গে আপস না করে ১০-১৫% সাধারণ সঞ্চয়ই আপনার জন্য যথেষ্ট (লাইফস্টাইল)? এছাড়া বাজারের ওঠানামা সহ্য করার ক্ষমতা, আয়ের বড় অংশ বিনিয়োগে আটকে রাখার মানসিকতা এবং ভবিষ্যতের জন্য আজকের কিছু শখ বিসর্জন দেওয়ার ইচ্ছে আপনার আছে কি না, সেটাও ভেবে দেখতে হবে।
কখন বিনিয়োগ করবেন আর কখন এড়িয়ে চলবেন?
চড়া সুদের ঋণ শোধ এবং ইমার্জেন্সি ফান্ড আলাদা করে রাখার পরেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা উচিত।
কখন বিনিয়োগ করবেন? - আপনার আর্থিক লক্ষ্য যদি কয়েক বছর পরের হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি খুবই জরুরি। এমন সময়ে ইক্যুইটি বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়।
কখন এড়িয়ে চলবেন? - আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যে টাকার দরকার হবে, তা শেয়ার বাজারে খাটানো উচিত নয়। কারণ বাজার হঠাৎ পড়ে গেলে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে। তাই স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনের টাকা নিরাপদ এবং সহজে তোলা যায় এমন লিক্যুইড হোল্ডিংস (Liquid holdings)-এ রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সঞ্চয়ের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব
মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন হলো এক ধরনের অদৃশ্য কর, যা আমাদের টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ১৫ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে ক্যাশ টাকা এবং ফিক্সড ইনকাম স্কিমের ভ্যালু এই মূল্যস্ফীতির কারণেই ধীরে ধীরে কমে যায়।
উদাহরণস্বরূপ, ৭০% ডেট (Debt) বা বন্ডে বিনিয়োগ করা একজন লাইফস্টাইল সঞ্চয়কারী মূল্যস্ফীতির কারণে তার আসল লাভ হারাতে পারেন। কিন্তু ৮০% ইক্যুইটিতে (Equity) বিনিয়োগ করা একজন অ্যাগ্রেসিভ সঞ্চয়কারী ব্যবসার বৃদ্ধির মাধ্যমে সহজেই মূল্যস্ফীতিকে টেক্কা দিতে পারেন। তাই দীর্ঘমেয়াদে নিজের সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে এবং মূল্যস্ফীতিকে হারাতে, লক্ষ্যের সময়সীমা অনুযায়ী ইক্যুইটি বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

