পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবরে পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সূচক ছিল ১২.৫৪ শতাংশ। আর নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.২৩ শতাংশ। 

জারি রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি (Inflation)। খুচরো বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধির (Wholesale Price Based Inflation) সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government) তরফে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবরে পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সূচক ছিল ১২.৫৪ শতাংশ। আর নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.২৩ শতাংশ। ১৬ বছরে এটাই হল পাইকারি বাজারের সর্বোচ্চ মূল্য সূচক।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চলতি বছরের এপ্রিল (April) মাস থেকেই বাড়ছিল পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধি। তখনই তা বেড়ে দুই সংখ্যায় পৌঁছে গিয়েছিল। আর নভেম্বরে সেই মূল্যবৃদ্ধি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক (Commerce and Industry Ministry) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, খনিজ তেল, মৌলিক ধাতু, অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, রাসায়নিক পণ্য এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণেই পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। 

অক্টোবর মাসে জ্বালানি তেল ও শক্তি সম্পদের (Fuel and Power) মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৭.১৮ শতাংশ। নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯.৮১ শতাংশ। অন্যদিকে নভেম্বর মাসে উৎপাদিত পণ্যের (Manufactured Product) মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৯২ শতাংশ।

অ্যাকিউট রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চের (Acuité Ratings & Research) চিফ অ্যানালিটিক্যাল অফিসার (Chief Analytical Officer) সুমন চৌধুরী (Suman Chowdhury) বলেন, "জ্বালানি ও শক্তিক্ষেত্রে ৫.৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে। এর ফলে সম্প্রতি তেল, কয়লা ও বিভিন্ন ধরনের ধাতব জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আর পাইকারি সবজির মূল্যবৃদ্ধির জেরেই খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।"

এক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, আরও আগে যদি কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের উৎপাদন শুল্ক কমিয়ে দিত তাহলে হয়তো এত বেশি মূল্যবৃদ্ধি হত না। তাঁদের আশঙ্কা এই মূল্যবৃদ্ধির আঁচ পড়বে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের উপর। তার ফলে বেজায় সমস্যায় পড়বেন সাধারণ মানুষ। নাভিশ্বাস উঠবে মধ্যবিত্তের। যদিও এর মধ্যেই আবার আশার আলো দেখছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। তাঁদের মতে, পাইকারি বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি আদতে চাহিদা বাড়ার লক্ষণ। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে আর্থিক বৃদ্ধির ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই মূল্যবৃদ্ধি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধি আগামী দিনে খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধিকে ঠেলে উপরে তুলবে। সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, জ্বালানি ও চিকিৎসার মতো অত্যাবশ্যক পণ্যের খরচ এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে জিনিসগুলির প্রয়োজন খুব বেশি নয় তেমন জিনিসের খরচ কমিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। এভাবেই অনেকে খরচ বাঁচাচ্ছেন। তার জেরে সেই পণ্যগুলির চাহিদা মার খাচ্ছে।