চাকরি মানেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের চাপ। কখনও অফিসের ডেডলাইন, কখনও আবার বসের বকুনি। কিন্তু যদি এমন চাকরির সুযোগ আসে, যেখানে মূল কাজই ঘুমানো? শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনই অভিনব ইন্টার্নশিপের আয়োজন করেছে ভারতের জনপ্রিয় হোম ফার্নিশিং সংস্থা ওয়েকফিট (Wakefit)। আর সেই ইন্টার্নশিপে অংশ নিয়েই ৯.৬ লক্ষ টাকা জিতে নিলেন মুম্বইয়ের জিনিয়া চট্টোপাধ্যায়।
চাকরি মানেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের চাপ। কখনও অফিসের ডেডলাইন, কখনও আবার বসের বকুনি। কিন্তু যদি এমন চাকরির সুযোগ আসে, যেখানে মূল কাজই হল ঘুমানো? শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনই অভিনব ইন্টার্নশিপের আয়োজন করেছে ভারতের জনপ্রিয় হোম ফার্নিশিং সংস্থা ওয়েকফিট (Wakefit)। আর সেই ইন্টার্নশিপে অংশ নিয়েই ৯.৬ লক্ষ টাকা জিতে নিলেন মুম্বইয়ের জিনিয়া চট্টোপাধ্যায়। শুধু নগদ পুরস্কার নয়, সঙ্গে রয়েছে সংস্থার তরফে স্পনসর করা একটি ছুটির প্যাকেজও। ওয়েকফিটের স্লিপ ইন্টার্নশিপের পঞ্চম মরসুমে দেশজুড়ে ২ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। একাধিক পর্যায়ের বাছাই এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের পর মাত্র ১০ জনকে এই ইন্টার্নশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তাঁদের প্রায় ৬০ দিন ধরে ঘুমের অভ্যাস এবং ঘুমের মানের উপর নজর রাখতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, নিয়মিত ঘুমের রুটিন বজায় রাখা এবং স্লিপ ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিনের পারফরম্যান্সের স্কোর তৈরি করা হত। সেই স্কোরের ভিত্তিতেই তৈরি হত লিডারবোর্ড।
শুধু ঘুমালেই হত না, ছিল মজার মজার চ্যালেঞ্জ!
এই ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণকারীদের কাজ শুধু বিছানায় শুয়ে ঘুমানো ছিল না। প্রতি সপ্তাহে তাঁদের জন্য থাকত একাধিক মজার চ্যালেঞ্জ।
- Sleep Cinema: জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্য ঘুমের সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে অভিনয় করতে হত।
- Sleep Bingo: এক সপ্তাহের ঘুমের অভ্যাস খতিয়ে দেখতে হত।
- Undercover Sleep Mission: কথোপকথনের মধ্যে কাউকে বুঝতে না দিয়ে 'Blanket' অথবা 'Pillow' শব্দ দু'টি ১০ বার ব্যবহার করতে হত।
- প্রতি সপ্তাহে সেরা পারফরম্যান্সের জন্য দেওয়া হত 'Pro Sleeper of the Week' খেতাব।
- ফাইনালে কী হয়েছিল?
প্রায় দু'মাসের প্রতিযোগিতার পর রত্নাগিরি মণিকন্দন, জিনিয়া চট্টোপাধ্যায় এবং মেহেক খোট সেরা তিন প্রতিযোগী হিসেবে উঠে আসেন। তাঁদের সঙ্গে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি পান হায়দরাবাদের করিম খান। সাপ্তাহিক ক্রিয়েটিভ চ্যালেঞ্জে সবচেয়ে বেশি সাফল্যের সুবাদে ফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি। 'Big Bedd' নামে আয়োজিত গ্র্যান্ড ফিনালে ছিল একাধিক আকর্ষণীয় পর্ব। 'Memory Foam Challenge'-এ নির্দিষ্ট ছবি দেখে একই রকম বেডরুম সাজাতে হত প্রতিযোগীদের। এরপর 'Sleep Auction'-এ বালিশ, কম্বল, এসি, ঘরের আলো এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় নিয়ে দর হাঁকতে হয়। সবশেষে নিজেদের পছন্দমতো ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে শেষ রাতের ঘুমের পরীক্ষা দিতে হয় চার প্রতিযোগীকে। তাঁদের স্লিপ স্কোর তুলনা করেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয় জিনিয়া চট্টোপাধ্যায়কে।
কবে থেকে শুরু এই অভিনব ইন্টার্নশিপ?
ওয়েকফিট ২০১৯ সালে প্রথম এই স্লিপ ইন্টার্নশিপ চালু করে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম চারটি মরশুমে ১০ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। ৬৫ জন ইন্টার্ন প্রত্যেকে এক লক্ষ টাকা করে স্টাইপেন্ড পেয়েছিলেন। এবার পঞ্চম মরসুমে বিজয়ী জিনিয়ার পুরস্কার ৯.৬ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি রয়েছে স্পনসরড ভ্যাকেশন। ষষ্ঠ মরশুমের জন্য প্রি-রেজিস্ট্রেশনও শুরু হয়েছে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।












