হলফনামায় দেওয়া হিসেব অনুসারে সম্পত্তির পরিমাণ অনেকটাই বেশি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ধারে বা ভারে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে। কেন্দ্রের নাম, কৃষ্ণনগর উত্তর। প্রার্থীরা হলেন, কৌশানি মুখার্জি এবং মুকুল রায়। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রটি কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষ্ণনগর লোকসভায় দুটি বিধানসভা ছিল, কৃষ্ণনগর পূর্ব ও কৃষ্ণনগর পশ্চিম। ডিলিমিটেশন কমিশনের সুপারিশে কৃষ্ণনগর উত্তর ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা গঠিত হয় ২০১১ সালের ভোটের আগে। ২০১১-র ভোটে এই কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিলেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা অবনীমোহন জোয়ারদার। তিনি হারিয়েছিলেন সিপিএমের সুবিনয় ঘোষকে। অবনীমোহন পেয়েছিলেন ৯৬ হাজার ৬৭৭ টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী পেয়েছিলেন ৬২ হাজার ৫৬৭টি ভোট। 

আরও পড়ুন- শেষ দফায় স্থির হবে মুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে যাওয়া ভবানীপুরের ভবিষ্যৎ 

আরও পড়ুন- দুই বিপরীত মেরুর প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই জমিয়ে দিয়েছে রাজারহাট গোপালপুরের ভোট 

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন অবনীমোহন জোয়ারদার। তিনি পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৬৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের অসীম সাহা। তিনি পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৪৯ ভোট। ২০২০ সালের জুন মাসে প্রয়াত হন অবনীমোহন জোয়ারদার। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার বছরে, ২০১১ সালে, এ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রমেন বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৬৭টি ভোট। ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির চঞ্চলকুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৭৯৬ ভোট। অর্থাৎ, ৫ বছরে বিজেপির ভোট এই কেন্দ্রে বেড়েছে পাঁচগুণ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর আসনটি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। সে বছর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মহুয়া মৈত্র এই কেন্দ্রে অনেকটাই পিছিয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ৬২ হাজার ৩২৪ ভোট। বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৭৫ ভোট। 

এবারে এই বাংলাদেশ লাগোয়া কেন্দ্রে সাংসদ মুকুল রায়কে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির সাধারণ ধারাটিকে মাথায় রেখে এই আসন নিশ্চিত করতে চাইছে গেরুয়াবাহিনী। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে বিপদ বুঝে দাঁড় করিয়েছে তারকা প্রার্থীকে। কৌশানি মুখোপাধ্যায়ের এই প্রথম ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। রুপোলি ঝলক দিয়ে কৌশানি পদ্ম থেকে ভোটারদের ঘাসফুলের দিকে নিয়ে আসতে পারবেন কিনা, তা জানা যাবে ২২ এপ্রিল, ষষ্ঠ দফার ভোটে।