তাপস দাস, প্রতিনিধি, কালিম্পং বিধানসভা কেন্দ্র দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই এলাকার রাজনীতি গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ১৯৭৭ সালের পর এখানে বামফ্রন্ট একবারই জিতেছিল, ১৯৮৭ সালে। জিতেছিলেন সিপিআই প্রার্থী। এরপর পরপর তিনবার জিতেছিল জিএনএলএফ, ২০০৬ সালের ভোট পর্যন্ত। ২০১১ ও ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রার্থী। 

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র শরিক ছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল পৃথক গোর্খাল্যান্ড গঠনের। এরপর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং কার্যত মমতা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। মমতাকে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পাহাড় থেকে পালিয়ে আসতে হয়। খুন হন পুলিশ অফিসার অমিতাভ মালিক। বিমল গুরুং ও তাঁর দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করে। বিমল গুরুং পালিয়ে যান। মোর্চার অন্য গোষ্ঠীর নেতা বিনয় তামাং ২০১৭ সালে হাত মিলিয়েছিলেন তৃণমূলের সঙ্গে।

হুইলচেয়ারে এক মাস পার মমতার, এই ইমেজ কি সত্যিই সাহায্য করছে মুখ্যমন্ত্রীর ভোটবাক্সকে .. 

গত বছর অক্টোবর মাসে বিমল গুরুং কলকাতায় ফিরে আসেন, এনডিএ তথা বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কছেদের কথা ঘোষণা করেন, একই সঙ্গে জানিয়ে দেন এই বিধানসভা ভোটে তিনি ও তাঁর দল মমতাকে সমর্থন দেবেন। এদিকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা তৈরি হয়েছিল যে দল ভেঙে, সেই জিএনএলএফ ডিসেম্বরে জানিয়ে দেয়, তারা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এদিকে, বিমল গুরুং ও বিনয় তামাঙের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব মেটাতে তৃণমূলের তরফ থেকে প্রভূত চেষ্টা করা হলেও, তা শেষ পর্যন্ত অসফল হয়েছে। ফলে কালিম্পং আসনে এবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দুই গোষ্ঠীর তরফেই প্রার্থী দাঁড় করানো হয়েছে।

কামারহাটিকে কামড়ে ধরেছেন তিন প্রার্থীই,মদন-সায়ন-রাজু কে হাসবে শেষ হাসি 

এই কেন্দ্রে জিএনএলএফ সমর্থিত বিজেপি প্রার্থী সুভা প্রধান। তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিক গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং গোষ্ঠীর প্রার্থী রাম ভুজেল। মোর্চার বিনয় তামাং গোষ্ঠীর প্রার্থী রুদেন লেপচা। কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়েছেন দিলীপ প্রধান। এ ছাড়া অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ ও কয়েকজন নির্দল প্রার্থীও ভোটে লড়বেন এই কেন্দ্র থেকে।   

দুই বিপরীত মেরুর প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই জমিয়ে দিয়েছে রাজারহাট গোপালপুরের ভোট ... R

২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন বিজেপির যশোবন্ত সিনহা, সুরিন্দর আলুওয়ালিয়া এবং রাজু বিস্তা। তিনজনেই গোর্খা সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এবারও কালিম্পংয়ে প্রচারে গিয়ে সেই লাইনেই হেঁটেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গোর্খা নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। 

তৃণমূল কংগ্রেস প্রচারে নিয়ে এসেছে এনআরসি ইস্যুকে। সুপ্রিমো মমতা সহ অন্যরাও বলছেন, এনআরসি লাগু করে গোর্খাদের ভারতছাড়া করার পরিকল্পনা রয়েছে মোদী সরকারের। 

এই পরিস্থিতিতে কালিম্পং বিধানসভা আসনের ভোটগ্রহণ ১৭ এপ্রিল।