পয়ালা মে থেকে টীকাকরণের আওতায় আসছে ১৮ বছর এবং তার ঊর্ধ্বে থাকা মানুষজন। এমনই সিদ্ধান্ত নিলেন নরেন্দ্র মোদী। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে করোনা টীকা উৎপাদনে জোর দিচ্ছে সংস্থাগুলি। টীকাকরণ নিয়ে সোমবার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি পরিস্কার করে জানিয়ে দেন, টীকাকরণ কর্মসূচির আওতায় যাতে অতি দ্রুত দেশের সর্বাধিক জনসংখ্যাকে নিয়ে আসা যায় তার জন্য গত এক বছর ধরেই চেষ্টা করে চলেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই তাই টীকাকরণ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপকে আরও বৃহত্তর বৃত্তে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই মোতাবেক ঠিক হয়েছে পয়লা মে থেকে দেশজুড়ে টীকাকরণের এই তৃতীয় ধাপকে লাগু করার। 

এই তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত যে ১৮ বছর বয়স থেকে সমস্ত মানুষজন-কে এবার টীকাকরণের আওতায় নিয়ে আসা। এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তর এই টীকাকরণ কর্মসূচিতে আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে টীকার দাম থেকে শুরু করে উৎপাদন এবং আমদানি, টীকাকরণের বয়স ও টীকাকরণ কার্যকরের পরিচালনার মতো বিষয়গুলি রয়েছে। এমনকী, টীকা উৎপাদন সংস্থাগুলিকে কিছু শীথিলতাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যাচর ফলে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী এবার টীকা উৎপাদন করতে পারবে সংস্থাগুলি। 

টীকা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি যাতে আরও বেশি করে দেশীয় সংস্থা এবং বিদেশি সংস্থাকে টীকা কেনার ক্ষেত্রে আকর্ষণ করতে পারে তার জন্যও নিয়মে বেশকিছু শিথীলতা এনেছে কেন্দ্র। যারমধ্যে অবশ্য রোজ টীকা উৎপাদনের সংখ্যার উপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া। এর ফলে টীকা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি তাদের ৫০ শতাংশ উৎপাদন রাজ্যগুলিকে সরবরাহ করতে পারবে এবং পুরনো নির্ধারিত দামেই খোলা বাজারেও ছাড়তে পারবে। 

রাজ্য সরকারগুলিকেও টীকাকরণে বিশেষ অধিকার প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যগুলি-র যদি অতিরিক্ত টীকা প্রয়োজন হয় তাহলে তারা সারসরি উৎপাদক সংস্থার কাছ থেকে তা ক্রয় করতে পারবে। এমনকী, রাজ্যগুলি ১৮ বয়সের উপরে থাকা যে কোনও মানুষকেই টীকা দিতে পারবে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের মুখাপেক্ষী হয়ে তাদের থাকতে হবে না। 

ভারত সরকার এই কয়েক মাস ধরে যে টীকাকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছিল, সেই টীকাকরণ কর্মসূচি একইভাবে চলবে। এতে কোনও রদবদল হচ্ছে না। যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী এবং এইচসিডবলু ও এফএলডবলু-র টীকাকরণে কর্মসূচি চলছিল, তা অব্যাহতই রাখা হয়েছে। 

ভারত সরকার এই কয়েক মাস ধরে যে টীকাকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছিল, সেই টীকাকরণ কর্মসূচি একইভাবে চলবে। এতে কোনও রদবদল হচ্ছে না। যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী এবং স্বাস্থ্যকর্মী এবং কোভিড যোদ্ধাদের টীকাকরণ কর্মসূচি চলছিল, তা অব্যাহতই রাখা হয়েছে। 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় করোনাভাইরাস টীকাকরণ কর্মসূচি-র প্রথম দফা শুরু হয়েছিল নতুন বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে। প্রথম ধাপে মূলত যারা স্বাস্থ্য-কর্মী তাঁদেরকেই টীকাকরণের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এর সঙ্গে কোভিড মোকাবিলায় একদম প্রথমসারিতে থাকা বা ফ্রন্ট-লাইন ওয়ার্কার্সদের টীকা দেওয়া চালু হয়েছিল। প্রথম ধাপের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপকে চালু করা হয়েছিল পয়লা মার্চ থেকে। এতে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের টীকাকরণের আওতায় নিয়ে আসা হয়। ভারতে করোনাভাইরাসের মৃত্যুর হারে ৪৫ বছর তা তার থেকে বেশি বয়সীরা সবচেয়ে এগিয়ে। এই এজ গ্রুপে ৮০শতাংশ মৃত্যুর হার পাওয়া গিয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে অসংখ্য বেসরকারি সংস্থা নিজেদের উদ্যোগেই বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে হাত মিলিয়ে টীকাকরণ কর্মসূচিও চালায়। সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলিও টীকা দেওয়া শুরু করেছিল এই ধাপ থেকে।