কোভিড -১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ২১ দিনের জন্য ভারতে লকডাউন প্রোটোকল জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু, তিনি হলেন স্বয়ং 'মা আদি শক্তি', তাঁকে ঠেকায় কে? তাই বুধবার লকডাউনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশে কয়েকশো ভক্তবৃন্দকে নিয়ে ধর্মসভা বসিয়েছিলেন মাতাজি। পুলিশ তা বন্ধ করতে আসলে মাতাজি তাদের তরোয়াল উঁচিয়ে ভয়ও দেখান। কিন্তু শেষ রক্ষা হল কি?

ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরা হয়েছে। ওই ভিডিওতে লাল শাড়ি পরিহিতা ওই স্বঘোষিত সাধক মাতাকে পুলিশবাহিনীর দিকে তরোয়াল নিয়ে তেড়ে আসতে দেখা গিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে রীতিমতো আগ্রাসীভাবে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। পুলিশকে মাইক নিয়ে বলতে শোনা যায়, বিহার বা অন্য রাজ্য থেকে যে যে ভক্ত জড়ো হয়েছেন তাদের সেখান থেকে চলে যেতে। মাতাজি বা তার দলবল যাতে কিছু না করতে পারে, সেইজন্য পুলিশ তাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে বলেও জানায়।

এরপরই, ওই মহিলা এবং তার দলবল ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা সাফ জানিয়ে দেয় ওই জমায়েত চলবেই। এমনকী, পুলিশের কতায় অনেক ভক্ত সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে তাদের বাধাও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত, তাদের বশে আনতে যোদী আদিত্যনাথের পুলিশকে হাল্কা লাঠিচার্জও করতে হয়। আর মহিলা পুলিশ গিয়ে মাতাজি-কে মাটিতে ফেলে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যায়।

দেখে নেওয়া য়াক ভিডিওটি -

দেওরিয়ার পুলিশ সুপার শ্রীপত মিশ্র, জানিয়েছেন এই ঘটনায় আদি শক্তি মাতা এবং আরও ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন বুধবার থেকে রামনবমীর উদযাপন করার লক্ষ্যে এই ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে ওই ধর্মসভায় করোনাভাইরাস-এর 'বিশ্বাস-নিরাময়' চলছিল, অর্থাৎ টোটকা জাতীয় কুসংস্কার-কে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছিল।

তাদের গ্রেফতারের আগে পুলিশ তাদের জানিয়েছিল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা রয়েছে। তিনজনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ। তাতেও তারা সেখান থেকে জমায়েত সরাতে অস্বীকার করে। পুলিশকে দেখে হিংস্র হয়ে ওঠে। মাতাজি এবং তাঁর দলবলকে আপাতত জেল হেফাজতে রাখা হবে।