সোমবারই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল জাতীয় টিকা নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারই করোনা টিকা কর্মসূচি পরিচালনা করবে। তারপরই মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।  কোভিড টিকা যাতে অপচয় করা না হয় তার জন্য রাজ্যগুলিকে সচেতন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোন কোন ভিত্তিতে টিকা রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিতে সরবরাহ করা হবে। 

টিকা সরবরাহে আগ্রাধিকার 
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকার টিকা অভিযান পুনরায় নিয়ন্ত্রণ করএছেন। ভারতে উৎপাদিত ৭৫ শতাংশ ভ্যাকসিন কেন্দ্রীয় সরকার সংগ্রহ করবে আর রাজ্যগুলিকে তা সরবরাহ করা হবে। জনসংখ্যা, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, টিকাপ্রদানে অগ্রগতি- এই তিনটি মাপকাঠির ভিত্তিতে রাজ্যগুলিকে টিকা সরবরাহ করা হবে। 

টিকা অপচায় 
ভ্যাকসিন অপরচায়, ভ্যাকসিন বরাদ্দকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে বলেও নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ প্রথম পর্বে টিকা প্রদান যখন শুরু হয়েছিল তখনই দেখা গিয়েছিলে বেশ কয়েকটি রাজ্যে টিকা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ৪০ শতাংশেরও বেশি। কেন্দ্র এই নির্দেশিকা জারি করে প্রথম থেকেই টিকা অপচয় নিয়ে রাজ্যগুলিকে সচেতন করতে চাইছে। গতমাসে ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড় সরবরাহকৃত টিকার প্রায় ৩৭ ও ৩০ শতাংশ নষ্ট করেছে বলে আগেই অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রী. সরকার। বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশে ১১ শতাংশ টিকা নষ্ট হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি জানিয়েছে তথ্যটি ত্রুটিযুক্তি। মোট সরবরাহকৃত টিকার মাত্র ৫ শতাংশই অপচয় করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি। 

টিকায় আগ্রাধিকার 
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকায় জানান হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, ফ্রন্টলাইন করোনা যোদ্ধা আর ৪৫ বছরের উর্ধ্ব - যাদের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছেন টিকা দানের ক্ষেত্রে  সংশ্লিষ্টদের আগ্রাধিকার দিতে হবে। তারপরেই ১৮ উর্ধ্বদের টিকা প্রদান করা হবে। ১৮ উর্ধ্ব নাগরিকদের  কীভাবে টিকা দেওয়া হবে, কোন কোন বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে- সেই সিদ্ধান্ত রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলগুলিকে নিতে হবে। 

টিকা সংগ্রহ 
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দেশে উৎপাদিত টিকার ৭৫ শতাংসই সংগ্রহ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। তা সরবরাহ করবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসিত এঞ্চলগুলিতে। বেসরকারি সংস্থা বা হাসপাতাল ২৫ শতাংশ টিকা সংগ্রহ করতে পারবে। তবে বেসরকারি হাসপাতাল ভ্যাকসিনগুলির নির্ধারিত দামের তুলনায় মাত্র ১৫০ টাকা সার্ভিস চার্চ গ্রহণ করতে পারবে। এই এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেবে রাজ্য সরকার। আগামী ২১ জুন থেকে গোটা দেশেই নতুন টিকানীতি লাগু হবে। 

গতকালই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবারই ঘোষণা করেছেন দেশের সব মানুষকেই বিনামূল্যে করোনা টিকা দেওয়া হবে। আর কেন্দ্র সরকারই টিকাকর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক মঙ্গলবার জানিয়েছে এখনও পর্যন্ত রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিতে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন টিকার ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দেশে ২৩ কোটি ৬১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭২৬ জনকে কোভিড টিকা প্রদান করা হয়েছে।