সারা পৃথিবী এখন তাঁদের অন্য চোখে দেখছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ে তাঁরাই প্রকৃত যোদ্ধা। তাদের বলা হচ্ছে করোনা-ওয়ারিয়র্স অর্থাৎ, করোনা-যোদ্ধা। ওঁরা জাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী। বিশ্বব্যপী করোনাভাইরাস যুদ্ধে তাঁরাই রয়েছেন একেবারে সামনের সারিতে। যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মতোই নিজেদের প্রাণ বিপন্ন করে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখছেন তাঁরা। কিন্তু, বুধবার মধ্যপ্রদেশের নরসিংপুর জেলায় এই করোনা-যোদ্ধা সাতজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করা হল। কী অপরাধ করলেন তাঁরা?

জানা গিয়েছে, নরসিংহপুর জেলায় করোনভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের কাজে নিযুক্ত ছিলেন ওই সাতজন ডাক্তার ও তিনজন নার্স। কিন্তু, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই দশজন করোনা-যোদ্ধা মঙ্গলবার থেকে কোনও খবরাখবর না দিয়েই যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়েছেন, অর্থাৎ কাজে যোগ দেননি। এমনকী, তাঁরা কোথায় আছেন, তার কোনও খোঁজখবরও পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের মোবাইল ফোনগুলি সুইচড অফ রয়েছে। ফলে জরুরি পরিষেবা ব্যহত হয়েছে।

এরপরই এদিন নরসিংপুরের এক সিভিল সার্জন জেলার কালেক্টর-এর কাছে ওই চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে কাজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ করেন। ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁরা এই কাজ করেছেন বলে দাবি করা হয়েচে, অভিযোগে। কালেক্টর দীপক সাক্সেনা এরপর ওই চিকিৎসকদের এবং অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন। নরসিংপুরের এসপি গুরুকরণ সিংহ জানান, সেইমতো নিখোঁজ চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাবাসের শাস্তি হতে পারে। জব্বলপুরের কমিশনার রবীন্দ্র কুমার মিশ্রকেও চিঠি দিয়ে ওই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন জেলাশাসক।

জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পিপিই-র অভাব রয়েছে, বলে শুরু থেকেই অভিযোগ জানাচ্ছিলেন ওই ডাক্তার ও নার্সরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার এই বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও পোশাক পাননি ডাক্তাররা। রীতিমতো প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাদের কাজ করতে হচ্ছে। এরপরই মঙ্গলবার থেকে আচমকা কাউকে কিছু না বলে উধাও হয়ে যান তাঁরা।