করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশই বাড়ছে। সংক্রমণ রুখতে বেশকয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার একটি অঙ্গ হল ইতিমধ্যে গোটে দেশে বেসরকারি ল্যাবগুলিকে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে। তবে অ্যান্টিবডি টেস্টের রিপোর্ট ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চকে জানাতে হবে বলেও বলা হয়েছে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে। কারণ অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল দেখেই একটি শহরের করোনার চালচিত্র তুলে ধরতে চাইছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য গ্রাহক প্রতি ৫০০-১২৫০ টাকা নেওয়া যেতে পারে। অল্প দিনের মধ্য়েই মুম্বই, দিল্লির মত শহরগুলিতে অ্যান্টিবডি টেস্টের সংখ্যাও বেড়েছে। একটি সূত্র বলছে বেশ কয়েকটি সংস্থা কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়ার আগে অ্যান্টিবডি টেস্ট ব্যাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হয় অ্যান্টিবডি পরীক্ষা কী সত্যি রোগ নির্ণয়ে সহায়ক? দ্বিতীয় প্রশ্ন হল অ্যান্টিবডি টেস্টে কী করে কাজ করে? 

এটি সাধারণ অ্যান্টবডি পরীক্ষা। এই দেশে আরও একধরনের অ্যান্টিবডি পরীভক্ষা করা হয়, যেটি এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ও বাকি করোনাযোদ্ধাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সেই  পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের দেহে থাকা অ্যান্টিবডির সংখ্যা পরিমাপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি আক্রান্ত হন তবে তিনি রোগ প্রতিরোধে কতটা সক্ষম তা নির্ধারণ করা হয় ওই পরীক্ষার মাধ্যমে। চিকিৎসকরা বারবার বলছেন অ্যান্টিবডি থাকা মানে মোটেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকা নয়।


ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সত্য়জিৎ রথ জানিয়েছেন,  অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে এটুকুই জানা যায় কোনও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গত কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছেন কিনা। কিন্তু এই পরীক্ষার মাধ্যমে যা জানা যায় না তাহল, কোনও মানুষের দেহে যে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হয়েছে তা আগামী কত দিন বা মাসের জন্য বজায় থাকবে। 

অ্যান্টিবডি পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সেন্টারস ফর ডিজি, কন্ট্রোল। সংস্থার দাবি বর্তমানে কোনও মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা জানা যায় না অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে। কারণ কোনও মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ১-২ সপ্তহ সময় লাগে তার দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে। 

এক বিশেষজ্ঞের কথায় অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফল যে সবসময় ঠিক হবে এমন কোনও বাধ্যবাধ্যতা নেই। কারণ একটি গবেষণায় ধরা পড়েছে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা ১০ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি।

একটি সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সম্বন্ধে জানানর জন্যই অ্যান্টিবডি পরীক্ষা জরুরি বলে মনে করছেন এক বিশেষজ্ঞ। শহর ও শহরের বিভিন্ন এলাতায় সংক্রমণের মাত্রা চিহ্নিত করার জন্যই অ্যান্টিবডি পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এই পরীক্ষাটি করোনা আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীরের অবস্থা জানতে ও ওই ব্যক্তির প্লাজমাদানের যোগ্যতা নির্ধারণ করতে রীতিমত গুরুত্বপূর্ণ।