কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় তরঙ্গের প্রভাব বেশি পড়ছে যুব সম্প্রদায়ের উপরই। প্রথম তরঙ্গের সময় আক্রান্ত ও মৃতদের তালিকায় নাম বেশি ছিল প্রবীনদের। কিন্তু, এইবার তরুণরাও রেহাই পাচ্ছেন না। গত মার্চ মাসে কেন্দ্র এই মতকে অস্বীকার করলেও এদিন তা প্রকারান্তরে মেনেই নিলেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ বা আইসিএমআর-এর প্রধান ডা. বলরাম ভার্গব। কিন্তু, কেন এমনটা ঘটছে? এর পিছনে প্রধাণত দুটি কারণ আছে বলে জানিয়েছেন ডা. ভার্গব।

গত মার্চে, কেন্দ্র বলেছিল ২০২০ সালে কোভিডের প্রথম তরঙ্গে আক্রান্তদের ৩১ শতাংশ ছিলেন ৩০ বছরের কম বয়সী। ২০২১ সালে এই সংখ্যাটা সামান্য বেড়ে ৩২-এ পৌঁছেছে। তাই যুবরা, এইবারের করোনা তরঙ্গে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনটা মনে করার কারণ নেই।

এদিন, আইসিএমআর প্রধান অবশ্য বলেন, বর্তমানে অল্প বয়সীরা করোনায় কিছুটা হলেও বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, লকডাউনের পর, গত কয়েক মাসে আচমকা যুব সম্প্রদায়ের মানুষই ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। দ্বিতীয়ত, দেশে করোনার এমন বিভিন্ন রূপভেদ ছড়িয়েছে, যা যুব সম্প্রদায়কেও আক্রান্ত করছে। তবে এখনও ৪০ বছরের বেশি বয়সীদেরই প্রতিকূল ফলাফলের ঝুঁকি বেশি।

আরও পড়ুন - 'পজিটিভিটি' দিয়ে করোনা ঠেকানোর নয়া কৌশল মোদীর, নিন্দায় সুরে সুর মিলে গেল রাগা এবং পিকে-র

আরও পড়ুন - ১ মাসে ১০ হাজার থেকে ৩.২৫ লক্ষ শিশি, কোন জাদুতে 'রেমডেসিভির সংকট' কাটালো ভারত

আরও পড়ুন - মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত ২০০০, মৃত্যুর খবর অন্যান্য রাজ্য থেকেও - বিপদ বাড়ছে কালো ছত্রাকের

অন্যদিকে মঙ্গলবার, কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, দেশে দৈনিক নতুন কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও করোনা সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার প্রাথমিক প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, বিহার, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানার মতো রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে দৈনিক নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। তবে, কর্ণাটক, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, অসম, ওড়িশা, হিমাচল প্রদেশ, মেঘালয় এবং ত্রিপুরার মতো রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে কোভিড সমক্রমণের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

বুধবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভারতে ৩,৪৮,৪২১ টি নতুন কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে এবং গত ২৪ ঘন্টটায় কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪,২০৫ জনের।