করোনায় বিধ্বস্ত গোটা দেশ। প্রায় প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে নয়া সিদ্ধান্ত কর্ণাটক সরকারের। কর্ণাটক সরকার জানিয়েছে হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি। সেখানে সুস্থ সাধারণ মানুষ টিকা নিতে আসলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছে। ফলে করোনা টিকাকরণ সেন্টার সরিয়ে ফেলা হবে। আপাতত বন্ধ স্কুল কলেজ ও অন্যান্য নিরাপদ স্থানে তৈরি করে হবে করোনা টিকাকরণ কেন্দ্র। 

হাসপাতাল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে দেওয়া হচ্ছে করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ। সেখানেই চিকিৎসা হচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীদের। একই জায়গায় টিকা নিচ্ছেন সুস্থ ব্যক্তিরা। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকছেই। সেই রাস্তা বন্ধ করতে চাইছে কর্ণাটক সরকার। তাই এই বিষয়ে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সামিল হন কর্ণাটকের উপ মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন টাস্ক ফোর্সের প্রধান সি এন অশথ নারায়ণ। 

এই বৈঠকে কীভাবে করোনা মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, যেসব করোনা রোগী হোম আইসোনেশনে রয়েছেন, তাঁদের জন্য রাজ্য দু লক্ষ পালস অক্সিমিটার কিনবে। সেগুলি বিলি করা হবে। এক কোটি আরটি পিসিআর টেস্টের কিটের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এতে টেস্টের গতি বাড়বে। তালুক হাসপাতালগুলিতে প্রতিটি শয্যার সঙ্গে যাতে অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে, অন্তত ১০০টি শয্যা অক্সিজেন সমেত যাতে থাকে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   

এদিকে, মারণ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোভিড ভ্যাকসিন যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সেই কথা বারবার বলেছেম চিকিৎসক থেকে বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল গোটা দেশ। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। দেশের হাসপাতালগুলিতে বেড, ওষুধ ও অক্সিজেনের আকালের পাশাপাশি টিকাকরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে সমাপ্ত। পর্যাপ্ত টিকা না থাকার অভিযোগ উঠছে সর্বত্র। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আরও একটু আশার আলো দেখাল জাইডাস ক্যাডিলা। তাদের তৈরি ভ্যাকসিন জাইকোভ-ডি খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে বাজার।