আমফান ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কের বর্ষপূর্তির গা-ঘেঁষেই আঁছড়ে পড়তে চলেছে তাউতে। ভারতবর্ষের বুকে আরও এক ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের তালিকায় নাম তুলতে চলেছে এটি। এই মুহূর্তে গুজরাট এবং কঙ্কণ উপকূলের খুব কাছেই অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় তাউতে। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী রাতের মধ্যেই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে তাউতে। তখন এর মূলকেন্দ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ দাঁড়াবে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। এরপর ১৬ তারিখ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় তাউতে-এর ঝোড়া হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছবে সর্বোচ্চ ১৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা-তে। তবে, ১৮ তারিখ দুপুর থেকে ঘূর্ণিঝড় তাউতে যত স্থলভাগের কাছাকাছি আসবে ততই এর গতিবেগ কমতে থাকবে। স্থলভাগে এই ঘুণিঝড়ের মূল চোখ বা ভরকেন্দ্র যখন স্থলভাগের উপরে আঁছড়ে পড়বে তখন ঝোড়া হাওয়া়র গতিবেগ থাকবে ১২৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় তাউতে-র মূল নিশানায় রয়েছে গুজরাটের পোরবন্ধর এবং নালিয়া। এই দুই অঞ্চলের মাঝামাঝি স্থানে আঁছড়ে পড়বে তাউত। এর ফলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে পোরবন্দর এবং নালিয়াতে। পূর্বাভাস অনুযায়ী ১৮ তারিখ সকালের মধ্যেই গুজরাট উপকূলের একদম কাছাকাছি পৌঁছে যাবে ঘূর্ণিঝড় তাউতে। 

ঘূর্ণিঝড় তাউতে নিয়ে শনিবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঘূর্ণিঝড় তাউতে-র আওতাধীন সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে রেলবোর্ডের কর্তারা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

 

বৈঠক সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব সমস্ত প্রভাবিত রাজ্যের মুখ্যসচিবদের মধ্যে হটলাইনে যোগাযোগ থাকবে। প্রতিটি মুহূর্তের খবর কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে শেয়ার করা হবে। এমনকী এই সমন্বয় রক্ষা হবে কেন্দ্রীয় সরকারে  অন্যান্য মন্ত্রকের সঙ্গেও যারা ঘূর্ণিঝড় তাউতে-র মোকাবিলায় অংশ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পরিস্থিতির উপরে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবে বলেও বৈঠকে ঠিক হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সারাক্ষণ সংযোগ রক্ষা করে চলবে রাজ্যগুলি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এমনটাও জানানো হয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড় তাউতে-র প্রভাবে ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু ও কেরলে তীব্র বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। উত্তাল হয়েছে সমুদ্র। কোচি বন্দরে ইতিমধ্যেই উদ্ধারবাহিনী, স্পিডবোট এবং যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে পজিশন নিয়ে নিয়েছে নৌসেনা। উত্তাল সমুদ্রের জল ঢুকে ইতিমধ্যেই কোচি-র সৈকত তীরবর্তি বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখান থেকে লোকজনকে উদ্ধার করার কাজও শুরু করে দিয়েছে নৌসেনার বাহিনী। 


কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই জানিয়েছেন, সেখানে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় ইতিমধ্যেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দলকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

 ঘূর্ণিঝড় তাউতে-র জন্য গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে অসংখ্য ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেল। ইতিমধ্যেই তার তালিকাও প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। ১৭ এবং ১৮ তারিখে এই ট্রেনগুলি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। 


আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মতো ঘূর্ণিঝড় তাউতে গুজরাটের উপর দিয়ে রাজস্থান হয়ে দিল্লিতে প্রবেশ করবে। এখানেই প্রায় নব্বই শতাংশ শক্তি হারিয়ে ফেলার কথা ঘূর্ণিঝড় তাউতে। এরপর তা একটি সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হয়ে কাশ্মীরের দিকে যাবে অথবা পঞ্জাব দিয়ে পাকিস্তানের দিকে চলে যেতে পারে। এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় তাউতের অবস্থান কঙ্কণ উপকূলের কাছে। এর জেরে দক্ষিণ ভারতে ব্যাপক বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, ঘূর্ণিঝড় তাউতে-র প্রভাবিত প্রভাবিত হবে- কেরল, তামিলনাড়ু, লাক্ষাদ্বীপ, পদুচেরি, কর্ণাটক, গোয়া, দাদরা ও নগর-হাভেলি, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান। আবহাওয়া দফতরের মতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে- গুজরাটের দ্বারকা, কুচ, পোরবন্দর, জুনারগড়, গির সোমনাথ, জামনগরে। এছাড়াও ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়তে পারে গুডরাটেক রাজকোট, আমরেলি, ও মোরবি জেলা। সমুদ্র উত্তাল হয়ে যাওয়ায় মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে ঘরের মধ্যেই থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।