প্রধানমন্ত্রীর ডাকে ২১ দিনেই শেষ হবে না আরও বাড়ানো হবে লকডাউনের মেয়াদ। লকডাউনের  দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি রাজ্য লকডাউন বাড়ানোর পক্ষেই সওয়াল করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হোক বলেই দাবি করেছে কেন্দ্রের তৈরি করা ১১টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি। মূলত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এই কমিটিগুলি তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  এই কমিটিগুলি ইতিমধ্যেই লকডাউন নিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে। তবে এখনই কোনও স্থির সিদ্ধান্তে আসেনি কেন্দ্র। সূত্রের খবর সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

তেলাঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওসহ অনেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রাণ বাঁচালেই বাঁচিয়ে রাখা যাবে দেশের অর্থনীতি। এই যুক্তি খাড়া করে লকডাউনের পক্ষেই সওয়াল করেছেন চন্দ্রশেখর রাও। রাজস্থানেরল মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলত বলেছেন কেন্দ্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও তাঁরা এখনই নিষেধাজ্ঞা তুলবে না। অসম সরকারএ লকডাউনের পক্ষে সওয়াল করেছে। ১৪ এপ্রিল লকডাউন উঠে যাওয়ার পরই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে এমনটা মনে করা ঠিক নয় বলেই সওয়াল করেছে কর্নাটক, উত্তর প্রদেশসহ একাধিক রাজ্য। তবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব লব আগরওয়াল জানিয়েছেন এখনও এই বিষয় নিয়ে কোনও স্থির সিদ্ধান্ত হয়নি। 

আরও পড়ুনঃ কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় জব্দ হতে পারে করোনাভাইরাস, কী বলছেন চিকিৎসকরা

আরও পড়ুনঃ লকডাউনের পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার, সনিয়া গান্ধি চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রীকে

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এবার কি হাতিয়ার হবে ড্রোন, সেই পথেই লক্ষ্মৌর বিজ্ঞানী

করোনভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে রাজ্যগুলির আর্জি আগামী জুন মাস পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হোক। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ওপর। দক্ষিণ দিল্লির তাবলিগি জমাতের অনুষ্ঠান থেকে গোটা দেশে ভয়ঙ্করভাবে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। সূত্রের খবর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মতি দিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ওপরও। 

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে গত ২৫ মার্চ থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন শুরু হয়েছে ভারতে। যা বিশ্বের সবথেকে বড় লকডাউন হিসেবে চিহ্নিত। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৪ এপ্রিল লকডাউন উঠে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনও দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। মৃতের সংখ্যা একশো ছাড়িয়ে। আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। বিশ্বের ১৮৩টি দেশে প্রভাব ফেলেছে করোনাভাইরাস। এই পরিস্থিতিতে ইতালিসহ একাধিক দেশ লকডাউনের পথেই হেঁটেছে।