১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে ফ্রান্সের সঙ্গে ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার একটি চুক্তি হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই চুক্তির জন্য 'প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি' (AoN) জারি করেছে।

১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান (Rafale Fighter Jets) কেনায় অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (DAC)। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS) চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। এটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) যুদ্ধ সক্ষমতা এবং আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে। এটি সেই রাফাল যা অপারেশন সিঁদুরের সময় আকাশে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, চোখের পলকে পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটি সহ বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছিল। আসুন এই ঐতিহাসিক চুক্তির বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে ফ্রান্সের সঙ্গে ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার একটি চুক্তি হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই চুক্তির জন্য 'প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি' (AoN) জারি করেছে। এই চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর 'দেশীয়' স্পর্শ। ফ্রান্সের ডাসাল্ট এভিয়েশন সম্পূর্ণরূপে উড়তে প্রস্তুত অবস্থায় ১৮টি রাফাল বিমান ভারতে সরবরাহ করবে। ভারতে তৈরি হবে ৯৬টি বিমান। বিমানের ৮০% যন্ত্রাংশ ভারতে তৈরি করা হবে, যার মধ্যে ৬০% পর্যন্ত দেশীয় সামগ্রী ব্যবহার করা হবে। ডাসাল্ট এভিয়েশন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন এবং অ্যাসেম্বলি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে ভারতীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করবে।

প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের এই চুক্তিটি ভারতের বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয়ের মধ্যে একটি। ভারতীয় বিমান বাহিনী বর্তমানে যুদ্ধবিমানের তীব্র ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। ৪২টি স্কোয়াড্রনের অনুমোদিত শক্তির বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন কার্যকর রয়েছে। এই ১১৪টি নতুন বিমানে ৮৮টি সিঙ্গল সিট এবং ২৬টি টুইন সিট ভেরিয়েন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যা পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। ভারতে বর্তমানে দুটি রাফাল স্কোয়াড্রন রয়েছে, সেগুলি হল-'গোল্ডেন অ্যারো' (আম্বালা, হরিয়ানা), 'ফ্যালকন' (হাশিমারা, পশ্চিমবঙ্গ)।