প্রতিদিনই  সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে দেশে। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা পাড় করে গিয়েছে ১৬০০ গণ্ডি। করোনা আক্রান্ত রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে পঞ্জাবও। বুধবার মোহালি জেলায় নতুন করে আরও ৩ জনের শরীরে মারণ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জন। এদিকে রাজ্যটিতে করোনা প্রাণ কেড়েছে ৪ জনের। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেশজুড়ে লকডাউন করা হয়েছে। মানুষের বাইরে বের হওয়া আটকাতে আলাদা করে রাজ্যজুড়ে কারফিড জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। রাজ্যের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও কিন্তু নিয়মিত নিজেদের কাজ করে চলেছেন সাফাই কর্মীরা।

মারণ করোনা বাসা বাঁধেনি তো শরীরে, নিশ্চিত হতে এবার ঘরে বসেই করা যাবে পরীক্ষা

করোনা আতঙ্কে পথে দেখা নেই জনমানবের, জমেই রইল ১২০ কোটি টাকার পাহাড়

স্বামীকে বিরক্ত না করে মেকআপ করুন, লকডাউনে সময় কাটাতে পরামর্শ দিল দেশের সরকার

চিনের হুবেইতে উৎপত্তি হওয়া মারণ করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক এখন তৈরি করে উঠতে পারেননি গবেষকরা। বিশ্বের নানা প্রান্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এখনও ওষুধ তৈরিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। এই অবস্থায় করোনা প্রতিরোধ করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  কিভাবে নিজেকে ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন তা নিয়ে একাধিক নির্দেশিকা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। আমাদের দেশে লকডাউনের জন্য অফিস-কাছারি, কল-কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবকিছুই বন্ধ রয়েছে। মানুষকে বারবার বাড়িতে থাকার অনুরোধ করছে সরকার। কিন্তু এর মধ্যেও নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কিছু মানুষ বের হচ্ছেন আমাদের পরিষেবা দিতে। তার মধ্যে যেমন রয়েছেন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা, তেমনি অবদান রয়েছে সাফাইকর্মীদের। রোজ সকালে নিয়ম করে এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছেন তারা। বাড়িতে এসে নিয়ে যাচ্ছেন জঞ্জাল। সমাজের পিছনের সাড়িতে থাকা এই মানুষগুলিকে আমরা অনেক সময়ই তুঞ্ছ-তাঞ্ছিল্য করে থাকি। কিন্তু নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পরিষেবা দিতে করোনা সংক্রমণের আতঙ্ককে দূরে সরিয়ে রেখে পথে নামা এই মানুষগুলিকেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাল পঞ্জাবের নবা এলাকার বাসিন্দা।

রোজকার মত নিয়ম মেনে এদিন সকালেও এলাকায় জঞ্জাল পরিষ্কার করতে এসেছিলেন দুই সাফাইকর্মী। তারা পৌঁছতেই এলাকার বাসিন্দার ফুল ছুড়তে শুরু করেন বাড়ির বারান্দা ও ছাদ থেকে। অনেকে নিচে নেমে এসে পড়িয়ে দেন মালাও। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যেভাবে এদেশের সাফাইকর্মীরা জান-প্রাণ লাগিয়ে কাজ করছেন, তার জন্য হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান এলাকাবাসী। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা কুর্নিশ জানান পঞ্জাবের নবা এলাকার বাসিন্দাদের এই উদ্যোগকে। এমনকি পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়টি শেয়ার করেন। 

 

 

নিজের  দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়ে যে এভাবে অভ্যর্থনা জুটবে তা হয়তো ভাবতে পারেননি ওই দুই সাফাইকর্মীও। তবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যারা সামনে থেকে লড়ছেন তাদের উৎসাহ দেওয়া তা সকল দেশবাসীরই কর্তব্য। চিকিৎসকরা যেমন হাসপাতালে থেকে নিরন্তর রোগীদের সেবা করে চলেছেন, তেমনি অন্যান্য জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও নিজেদের বিপদ  তুচ্ছ করে প্রতিদিনের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এই অবস্থায় দেশবাসী হিসাবে তাঁদের প্রত্যেকের কাজকেই উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি সাধুবাদ জানানোও আমাদের কর্তব্য বলে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন  পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।