২১ দিনের লকডাউনের দুই সপ্তাহ পূর্ণ। ১৪ এপ্রিলই শেষ হবে করোনভাইরাস-এর সংক্রমণ প্রতিহত করতে ২১ দিনের নজিরবিহীন দেশব্যাপী লকডাউন। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি যা, তাতে প্রধানমন্ত্রী যতই ১৮ দিনের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে ২১ দিনের করোনা-যুদ্ধের কথা বলুন না কেন, এত সহজে এই লড়াই জেতা যাবে না, তা পরিষ্কার। তাহলে লকডাউন-এর সময়সীমা কি বাড়ানো হবে, নাকি অন্য কোনও পথে এগোন হবে করোনা মোকাবিলার জন্য? এই বিষয়ে আলোচনা জন্যই মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং করোনাভাইরাস মোকাবিলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সূত্রের মতে, ১৪ এপ্রিলের পর লকডাউন তুলে দেওয়া হবে কি হবে না, এই বিতর্ক থেকে দূরেই থাকতে চায় কেন্দ্র। এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বলটি ঠেলে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারগুলির কোর্টে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্যে লকডাউন থাকবে না প্রত্যাহার করা হবে। আর, সেই কারণেই এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ১৪ এপ্রিলের পর ভারতে করোনা যুদ্ধ লড়ার জন্য দুটি ভিন্ন কৌশল ঠিক করেছেন। যে যে রাজ্য লকডাউনের সময় বাড়াবে, সেই রাজ্যগুলির জন্য একরকম কৌশল, আর যে যে রাজ্য লকডাউন প্রত্যাহার করবে তাদের জন্য আরেকরকম কৌশল ঠিক করা হয়েছে। এবার দেখে নেওয়া যাক কী সেই পরিকল্পনা -

যে যে রাজ্যে লকডাউনের সময় বাড়বে

  • যে রাজ্যগুলিতে লকডাউন বাডড়ানো হবে সেইসব রাজ্যে খাদ্য ও ওষুধের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার উপস্থিতিই মূল উদ্বেগের বিষয়। সূত্রের খবর, এই রাজ্যগুলি যে সেনানিবাসগুলি রয়েছে, সেখানেই রেশন মজুত করা হবে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসকরা সমন্বয় সাধন করে সেই রেশন বিতরণের ব্যবস্থা করবেন।
  • এই রাজ্যগুলিতে বাণিজ্যিক পরিবহণ এখনকার মতোই চালু থাকবে।
  • কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় দরিদ্র মানুষের জন্য মেগা কমিউনিটি ক্যান্টিন স্থাপন করা হবে।
  • রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতিটি জেলায় পচনযোগ্য পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়। এই পণ্য বিক্রয়ের কেন্দ্রগুলিতে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।

করোনা রোধে গোটা ভারতে 'ভিলওয়ারা মডেল' চাইছে মোদী সরকার, কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা

কেন্দ্রের হিসেবে রাজ্য়ে করোনায় আক্রান্ত ৯১,মমতার দাবি ৬৯

কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় জব্দ হতে পারে করোনাভাইরাস, কী বলছেন চিকিৎসকরা

যে রাজ্যগুলিতে লকডাউন প্রত্যাহার করা হবে

  • সংশ্লিষ্ট রজ্য সরকারগুলিকে পর্যায়ক্রমে লকডাউন প্রত্য়াহার করার অনুরোধ জানানো হবে। ব্যক্তিগত চলাচলের জন্য যানবাহনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে, তবে রাস্তা ও দোকান খোলার বিষয় রাজ্যগুলিকে পর্যায়ক্রমে করতে হবে।
  • প্রথম সপ্তাহ: শুধুমাত্র আধা-প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দোকানগুলি
  • দ্বিতীয় সপ্তাহ: শুধুমাত্র হোম ডেলিভারির সুবিধা থাকা খাবারের দোকান এবং রেস্তোঁরাগুলি
  • তৃতীয়-সপ্তাহ: আধা-প্রয়োজনীয় প্রয়োজন পণ্যের বাজারগুলি
  • চতুর্থ সপ্তাহ: সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকলে, শপিং মলগুলি খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে ক্লাব এবং অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকবে। যদি পরিস্থিতি ফের বিগড়ে যায়, তাহলে আবার লকডাউন জারির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।