দিল্লি পুলিশের ধারণা, দেশি বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৯০০০ মানুষকে, ধর্মের দোহাই দিয়ে তিনি বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তাদের সন্ধানে এখন দেশজুড়ে রাজ্যে রাজ্যে খোঁজ চলছে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের থেকে কম কিছু না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়কে উড়িয়ে দিয়ে তিনি ওই বিশাল সংখ্যক মানুষকে জড়ো করেছিলেন মার্কাজ নিজামুদ্দিন-ও। তার জেরে এঁরা সকলেই এখন কোভিড-১৯'এর সম্ভাব্য রোগী। আর এতগুলো মানুষকে বিপদে ফেলে এখন তিনি নাকি রয়েছেন সেল্ফ কোয়ারেন্টাইন বা স্ব-বিচ্ছিন্নতায়। অনেকটা মহাভারতের যুদ্ধ শেষে লজ্জায় দুর্যোধনের দ্বৈপায়ন হ্রদে লুকিয়ে থাকার মতো।

বুধবারই, মৌলানা সাদ ও তাঁর ছয় সাগরেদ-এর বিরুদ্ধে মহামারী আইনে মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু, দেশকে ডুবিয়ে গত শনিবারের পর থেকে আপাতত বেপাত্তা মৌলানা। সূত্রের খবর, ৫৬ বছরের মৌলানা সাদ-ও কোভিড-১৯ আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁকে এবং আরও ছয় অভিযুক্ত মারকাজ কর্তাকে গ্রেফতারের জন্য দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা উত্তরপ্রদেশের মুজাফ্ফরনগরে দল পাঠিয়েছে। অনুসন্ধান চলছে দিল্লির বুকেও। খোঁজ নেওয়া হয়েছে ১৪টি হাসপাতালে।

এরমধ্য়েই বুধবার রাতে ফের 'দিল্লি মার্কাজ' ইউটিউব চ্যানেলে মৌলানা সাদ-এর দুটি অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেছেন ডাক্তারদের পরামর্শে তিনি দিল্লিতেই কোথাও স্ব-বিচ্ছিন্নতায় আছেন। প্রথম অডিও বার্তায় অবশ্য নিজের আগের অবস্থানই ধরে রেখেছিলেন তিনি। বলেন, 'মসজিদ-ই মৃত্যুর সবচেয়ে ভালো জায়গা'। সেই সঙ্গে দাবি করেন, তাঁর অনুসরণকারীদের কিচ্ছু করতে পারবে না করোনা।

তবে দ্বিতীয় অডিও ক্লিপটিতে একেবারে আমূল বদলে যায় তাঁর অবস্থান। পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে মৌলানা সাদ তাঁর তাবলিগি জামাত সদস্যদের সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলতে এবং বৃহত্তর জমায়েত না করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, চারপাশে যা ঘটছে তা মানুষের অপরাধের ফল। ঈশ্বরের ক্রোধ এড়াতে গেলে প্রত্যেককে বাড়িতেই থাকতে হবে। জামাত সদস্যদের ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চলা উচিত এবং প্রশাসনের সঙ্গে সহায়তা করা উচিত বলেও মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে। জামাত সদস্যদের তিনি স্ব-বিচ্ছিন্নতায় থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন, সাফ জানিয়েছেন এটা ইসলাম বা শরিয়া আইনের বিরোধী না।  

এর আগে মার্চ মাসে ওই জমায়েতের আগে মৌলানা আরও একটি অডিও বার্তা দিয়েছিলেন ডাবলিগি সদস্যদের উদ্দেশ্যে। সেখানে মৌলানাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, সরকারের পরামর্শ মেনে সামাজিক দূরত্ব রাখার কোনও দরকার নেই। এই সতর্কতা 'মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন রাখার ষড়যন্ত্র'। মৃত্যুর থেকে পালিয়ে লাভ নেই, সে সবসময় মাথার উপর নাচছে। এটা ঈশ্বরের তপস্যা করার সময়। ডাক্তারদের কথায় নামাজ বন্ধ করে দেওয়ার সময় নয়। একটা ভাইরাস ছড়াচ্ছে বটে, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে ৩০হাজার ফেরেস্তারা আছেন। তাঁরাই বাঁচাবেন। এই সময় বিচ্ছিন্ন তো নয়ই বরং আরও বেশি করে একত্রিত হতে হবে। এক থালায় খাবার খেতে হবে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আসলে মুসলমানদের ঐক্য ভাঙার পরিকল্পনা।