Iran যুদ্ধের কারণে ভারতে আরও বাড়বে তেলের দাম? এখনও মজুত ২৫ দিনের পেট্রোল-ডিজেল
Oil Price: পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির জেরে অশোধিত তেল, এলপিজি ও এলএনজি আমদানির জন্য নতুন দেশের খোঁজ করছে ভারত। সরকারি সূত্রে খবর, দেশের হাতে প্রায় ২৫ দিনের অশোধিত ও পরিশোধিত তেলের স্টক রয়েছে। এখনই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।
তেল সংকটে ভারত!
পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল আমদানি করে ভারত। বর্তমানে অশান্ত পশ্চিম এশিয়া। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তাতে বর্তমানে কমবেশি ১০টি দেশ জড়়িয়ে পড়েছে। বন্ধ হরমুজ প্রণালী। একাধিক দেশ আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এই অবস্থায় ভারতে জ্বালানি তেল অর্থাৎ পেট্রোল-ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কী জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার?
সোমবার, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ পুরী মন্ত্রকের সিনিয়র আধিকারিক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির (PSU) সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে অশোধিত তেল, এলপিজি এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
দাম বাড়বে না!
সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তেজনার আবহে এখনই দেশে পেট্রল বা ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের।
ভারতের অবস্থান
পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি সূত্রে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, ভারতের হাতে প্রায় ২৫ দিনের অশোধিত (crude) এবং পরিশোধিত (refined) তেলের স্টক মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে অশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি আমদানির জন্য বিকল্প দেশের খোঁজও শুরু করেছে ভারত।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বার্তা
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতির উপর ক্রমাগত নজর রাখছে। দেশে পেট্রোপণ্যের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবরকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানিয়েছে, "আমরা পরিস্থিতির উপর ক্রমাগত নজর রাখছি এবং দেশে প্রধান পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলির জোগান ও দাম স্থিতিশীল রাখতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
মন্ত্রকের তৎপরতা
শুধু তাই নয়, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীনস্থ বাণিজ্য বিভাগও (Department of Commerce) একটি বৈঠক করেছে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের আমদানি-রপ্তানির উপর তার সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করতে এই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রক, লজিস্টিকস সংস্থা এবং বাণিজ্য সহায়ক সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক জানিয়েছে, এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য বিভাগের বিশেষ সচিব সুচন্দ্র মিশ্র এবং ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) লাভ আগরওয়াল।
বৈঠকে লজিস্টিকস অপারেটর, শিপিং লাইন, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস, অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগ, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক, বন্দর ও জাহাজ মন্ত্রক, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং রপ্তানি সহায়ক সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র
বৈঠকে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মূল্যায়ন তুলে ধরে। তারা জানায়, জাহাজের রুট পরিবর্তন, পৌঁছনোর সময় বেড়ে যাওয়া, কন্টেইনারের অভাব, মালবাহী খরচ ও বিমার খরচ বৃদ্ধির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
আলোচনায় জোর
বাণিজ্য মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আলোচনায় মূলত জোর দেওয়া হয়েছে যাতে পণ্য পরিবহণে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, অপ্রয়োজনীয় দেরি এড়ানো যায় এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য কাগজপত্র ও অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া মসৃণ থাকে।"
অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি
উল্লেখ্য, ভারত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে বিপুল পরিমাণে অশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির জন্য রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবে না ভারত। কিন্তু ভারতও দেশে তেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে অন্য দেশের থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে।
রাশিয়া থেকে তেল!
কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রের খবর, সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনতেও পিছপা হবে না। কারণ ভারত স্পষ্ট করে জানায়নি যে রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। বিকল্প পথের সন্ধান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সূত্র।
