লকডাউনের মাঝেই দিল্লি থেকে রায়গঞ্জে চলে এসেছেন তিনি। নিজের নির্বাচনী এলাকায় মাস্ক বিলি করতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন খোদ বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। তিনি কি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও মানেন না? প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

আরও পড়ুন: মোদির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নেই মুখ্যমন্ত্রী, টুইটে খোঁচা রাজ্যপালের

করোনা প্রতিহত করতে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যে যেখানে আছে, তাকে সেখানেই থাকার অনুরোধ করেছেন তিনি। দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাওয়ার ক্ষেত্রে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সংক্রমণ ঠেকাতে কড়াকড়ি চলছে এ রাজ্যেও। বাইরে থেকে এলেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার করানোর নির্দেশ জারি করেছে সরকার। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কমপক্ষে ১৪ দিনে থাকতে হবে হোম আইসোলেশনেও। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জে মানুষকে সচেতন করতে পথে নামেন স্থানীয় সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাস্ক বিলি করেন তিনি। লকডাউনকে সফল করে রীতিমতো মাইকিং করে চলে প্রচারও। কিন্তু ঘটনা হল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই কর্মসূচি ঘিরেই বিতর্ক তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে। 

আরও পড়ুন: আল্লার ভরসায় থাকলেই আক্রান্ত হচ্ছেন,করোনার জন্য় 'মুসলিমদের' দায়ী করলেন দিলীপ

আরও পড়ুন: দু'ঘণ্টায় বদলে গেল সংখ্যা, রাজ্য়ে করোনায় মৃত কমে ৩, আক্রান্ত ৩৪

রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার বাম বিধায়ক ইমরান আলি রামজ। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে এলে কমপক্ষে ১৪ দিনে হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। কিন্তু রায়গঞ্জে আসার পর মাত্র দু'দিন বাড়িতে ছিলেন সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী। তারপরেই মাস্ক বিলি করতে দলের কর্মীদের নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। বজায় রাখেননি 'সামাজিক দূরত্ব'ও। বিধায়কের প্রশ্ন, নিজে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হয়েও কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করলেন দেবশ্রী? তাহলে কি তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশও মানেন না? বিজেপি সাংসদের আচরণের সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালও। জেলাশাসকের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন তিনি।  জানা গিয়েছে, লকডাউন জারি হওয়ার আগে দিল্লি থেকে কলকাতায় চলে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। লকডাউনে মাঝে মঙ্গলবার সড়কপথে রায়গঞ্জে পৌঁছন তিনি।