রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সকাল ১০টা থেকে শুরু কার্যত লকডাউন। সকাল সাতটা থেকে ১০ টা পর্যন্ত বাজার, দোকান খোলার রাখার নির্দেশ রয়েছে। তারপরেই বন্ধ করে দিতে হবে সব। নবান্নের এই নির্দেশিকা বলবৎ করতে রাস্তায় নামল রায়গঞ্জ পুলিশ। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী এদিন সকাল ১০ টা বাজতেই লকডাউনের বিধিনিষেধ লাগু করা শুরু হয় রায়গঞ্জে। 

এদিন সক্রিয় ভূমিকা নেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। সকাল ১০ টা বাজতেই পুলিশকর্মীরা রাস্তাঘাট খালি করার কাজে নেমে পড়ে। রাস্তায় বেরোনো টোটোচালকদের সতর্ক করা হয়। সতর্ক করা হয় পথচলতি মানুষকেও। এদিন সকাল সাতটা থেকে বাজার খুলতেই ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দোকান বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। তবে ১০টা বাজতেই পুলিশের তাড়ায় ফাঁকা হয়ে যায় রাস্তা ঘাট। 

উল্লেখ্য, রবিবার থেকে আগামী ৩০ মে ১৫ দিনের জন্য জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত দফতরগুলি ছাড়া সকল সরকারি, বেসরকারি দফতর বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করে নবান্ন। শুক্রবারের স্বাস্থ্য ভবনের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী,রাজ্যে একদিনে মৃত ১৩৬ জন এবং সংক্রমণ ২০ হাজার ৮৪৬ জন। এই পরিস্থিতিতে আরও কড়াকড়ি চালু করে রাজ্য সরকার। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তার ঘোষণা করেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রেখেই এই সিদ্ধান্ত। তাই এই নিয়ম সকলকেই মানতে হবে। না হলে মহামারি আইনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজ্য সরকার এদিন ঘোষণা করে জানিয়েছে যে, স্বাস্থ্য, আদালত, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, সংবাদমাধ্যম, সাফাই, পেট্রোল পাম্প, গাড়ির যন্ত্রাংশের মতো জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী পরিষেবা শুধমাত্র চালু থাকবে। লোকাল ট্রেন আগেই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার বাস-মেট্রো-ফেরি পরিষেবাও সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরী প্রয়োজন না হলে ট্য়াক্সি এবং অটোও চলাচল করবে না। এবং আগের মতোই বন্ধ থাকবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বন্ধ থাকবে শপিং মল, স্পা, সিনেমা হল, শরীরচর্চা কেন্দ্র, সুইমিং পুল।