রাজ্যে অক্সিজেনের পরিমাণ মজুত রাখা নিয়ে উদ্বেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন। তৃতীয় বার ক্ষমতায় এসেই নবান্নের বৈঠকে করোনা মোকাবিলা প্রধান দায়িত্ব বলে ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পথে হেঁটে নয়া ঘোষণা রাজ্য সরকারের। বুধবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে। এই মনিটরিং প্যানেল রাজ্যে মজুত অক্সিজেনের পরিমাণ নজরে রাখবে ও সরবরাহের ব্যবস্থা করবে। 

পাঁচ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন এডিএইচএস (মানসিক স্বাস্থ্য) দেবাশিস হালদার। রয়েছেন রাঘবেশ মজুমদার, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অদিতি চৌধুরি, অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর দেবপ্রিয় সমাদ্দার, প্রবীর কুমার ঘোষ। বিভিন্ন করোনা হাসপাতাল ঘুরে দেখবে এই মনিটরিং প্যানেল। প্রতিটি হাসপাতালে মজুত অক্সিজেনের পরিমাণ, অক্সিজেনের গতি, করোনার জন্য ব্যবহৃত নানা জিনিস যেমন মাস্ক, পিপিই কিটের পরিমাণও খতিয়ে দেখবে কমিটি।

মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্য দফতর থেকে একটি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়। তাতে জানানো হয়, কোনও হাসপাতালে অক্সিজেন যেন নষ্ট না হয়, সেই বিষয়টির দিকে নজর রাখতে হবে। উল্লেখ্য মঙ্গলবার কলকাতার বিদ্যাসাগর হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে দুই মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনারও তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। মৃতদের পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয় ওই দুই রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। 

এদিকে, শুক্রবারই কালোবাজারির অভিযোগ উঠল শহর কলকাতায়। ঘটনায় পুলিশের জালে একাধিক। কোভিড পরিস্থিতিতে অসহায়তার সুযোগ নিয়ে চড়া দামে কোভিড চিকিৎসার সরঞ্জাম বিক্রি করছে। আর শহরের একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে কলকাতা পুলিশের গুণ্ডা দমন শাখা শেষ অবধি তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেছে। 

অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি করার জন্য এসএসকেম হাসপাতালের সামনে থেকে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। পাশপাশি মোটা টাকার বিনিমনে কোভিড রোগীকে বেড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং  সরকারী কর্মচারী হিসাবে পরিচয় দেওয়ার অপরাধে শেখ নাসিরউদ্দীন নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। এখানেই শেষ নয়, অবৈধভাবে অক্সিজেন ফ্লো মিটার কিনতে রোগীদের প্ররোচিত করার জন্য দুটি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের দখল থেকে ২ টি ডিভাইসই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, রাজ্য যতো করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে, ততোই আরও অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। কোভিড চিকিৎসার সরঞ্জামের কালোবাজারিতে ভরে গিয়েছে বাজার। শুধু বেড পাইয়ে দেওয়া, অক্সিজেন ইস্যুই নয় অপরাধী সেসব পেরিয়ে আরও থাবা বসাতে ওষুধ ইন্ডাস্ট্রিকেও লক্ষ্য বানিয়েছে। তাই কোভিড চিকিৎসার সরঞ্জামে কালোবাজারি রুখতে কলকাতা পুলিশের তরফে শহরবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এবং কলকাতা পুলিশের তরফে ফোন নাম্বারও দেওয়া হয়েছে।