জি-৭'এর স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠকভ্যাকসিন পাসপোর্ট-এর কড়া বিরোধিতা করল ভারতএটা 'অত্যন্ত বৈষম্যমূলক' বলে মনে করেছে ভারতভবিষ্যতে মহামারির বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা 

জি-৭'এর স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে শনিবার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাসপোর্ট-এর কড়া বিরোধিতা করল ভারত। বিশ্বের ৭ ধনিতম দেশের এই বৈঠকে এই বছর ভারত আমন্ত্রিত অতিথি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে ডাক্তার হর্ষ বর্ধন উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা এবং টিকাকরণের হার কম থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই অবস্থায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করা 'অত্যন্ত বৈষম্যমূলক' হবে। প্রসঙ্গত, ভারতের মাত্র ৩ শতাংশ জনগণ, টিকার দুটি ডোজই পেয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভ্যাকসিন পাসপোর্ট কী? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য-সহ বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ তাদের নাগরিকদের বিদেশে যেতে বা অন্য দেশের মানুষদের তাদের দেশে প্রবেশের জন্য ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ, করোনা টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নেওয়া থাকলে তবেই প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও পর্যটকদের জন্য এরকম একটি ভ্যাকসিন সম্পর্কিত ভ্রমণ-দলিল প্রবর্তন করতে চলেছে।

বৈঠকে ডা. হর্ষ বর্ধন বলেন, মহামারিটি এখন যে পর্যায়ে রয়েছে, সেখানে ভ্যাকসিন পাসপোর্টে ধারণা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে ভারত। উন্নত দেশগুলির তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলিতে টিকাকরণ যে অনেক কম হচ্ছে তা বাস্তব। উন্নয়নশীল দেশগুলি এখনও ন্যায্য ও সাশ্রয়ী মূল্যের নিরাপদ এবং কার্যকর ভ্যাকসিনের সরবরাহ এবং বিতরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করা উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য অত্যন্ত বৈষম্যমূলক এবং অসুবিধের হবে বলে মনে করছে ভারত।

পরের সপ্তাহেই জি-৭'এর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। তার আগে এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীভূক্ত দেশগুলির স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা ভবিষ্যতে মহামারি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত হুমকির বিরুদ্ধে সমন্বয় সাধনের বিষয়ে একমত হয়েছে। চিকিত্সা এবং ভ্যাকসিনগুলির আন্তর্জাতিক ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য একটি নতুন সনদের বিষয়ে তাঁরা সম্মত হয়েছেন। একটি যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা জানান, এই চুক্তিটির লক্ষ্য হচ্ছে কোভিড-১৯ এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যাগুলির মোকাবেলায় ভ্যাকসিন এবং চিকিত্সা সংক্রান্ত পরীক্ষার ফলাফলগুলি ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি আরও সহজ এবং দ্রুততর করা।

তবে, চলতি মহামারির অবসান ঘটাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলিতে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়ে কোনও নতুন প্রতিশ্রুতি দেননি কেউই। 'যত তাড়াতাড়ি সম্ভব' টিকার ডোজ ভাগ করে নেওয়া হবে, সেই পূর্ব-প্রতিশ্রুতিই আরও একবার দিয়েছেন তাঁরা।