করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে এই সময় গোটা দুনিয়াটাই ভয়ে সন্ত্রস্ত। মহামারী করনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বহু দেশই শেষ পর্যন্ত এক সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত লকডাউন করেছে। সেই লকডাউন অমান্য করায় করাচিতে মুরগি বানিয়ে প্রকাশ্যে বেশ কয়েকজন নাগরিককে শাস্তি দিল পুলিশ।

লকডাউনের সরকারি নির্দেশ মানতে বহু লোকের আপত্তি। সর্বত্র রাস্তায় দেখা যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ নানা ছুতোয় বাইরে বেরিয়ে পড়ছেন। আর তাঁদের বাগে আনতে রাস্তায় নেমে পুলিশ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কথায় সব সময় কাজ হচ্ছে না বলে পুলিশও মেজাজ হারেচ্ছে। 

নাগরিকদের কখনও বুঝিয়ে, কখনও চোখ রাঙিয়ে বাড়ি পাঠাতে হচ্ছে পুলিশকে। কোথাও প্রয়োজনে কান ধরে ওঠবোস করিয়েও শিক্ষা দিতে হচ্ছে। শেখাতে হচ্ছে করোনার সময় কী করণীয়। তা বলে প্রকাশ্য রাজপথে মুরিগি বানিয়ে শাস্তি? 

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে পাকিস্তানের করাচি, সিন্ধু ও পাঞ্জাবসহ কয়েকটি প্রদেশ লকডাউন করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে নাগরিকদের সেই নিয়ম রক্ষা করতে বার বার অনুরোধও জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম অমান্য করায় দেশটির পুলিশ অমান্যকারীদের রাস্তায় মুরগী বানিয়ে শাস্তি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুনলে আশ্চর্য হতে হয়, কারণ নিয়ম রক্ষা না করার জন্য এমন শাস্তির বিধান কোথাও আছে বলে কারও জানা নেই। জানা নেই বলেই প্রথম শোনা মাত্র অবাক হতে হয়েছিল এবং বিশ্বাস করতেও অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু অবাক হলেও এমনটাই ঘটেছে করাচিতে।

সরকারী আদেশ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ঘোষণার পরও করাচির শাহ ফয়সালের ৫ নম্বর কোরঙ্গি রোডে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কারণে একাধিক মানুষকে ঠিক ওই ভাবেই শাস্তি দেওয়া হয়। আর তারপরই সেই শাস্তির একাধিক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

এর আগে সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ বলেছেন, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কারও ঘর থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। সেটাই সবার জন্য ভাল হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাত ১২ টার পর থেকে পুরা সিন্ধুপ্রদেশে পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল শুরু করে।

অপ্রয়োজনীয় দোকান বন্ধ এবং জনসাধারণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানায় নিরাপপত্তা বাহিনী। এছাড়াও, লকডাউন লঙ্ঘন করায় করাচি থেকে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে।

পাকিস্তানে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৮৭৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ জন বলে জানা গিয়েছে।