ভারতে দেখা দিয়েছে কোভিড সুনামি। কোভিজের প্রথম তরঙ্গকে মোটামুটি সামাল দিতে পারলেও, দ্বিতীয় তরঙ্গের ধাক্কায় বেসামাল অবস্থা দেশের। আর এই অবস্থায় যত দ্রুত পারা যায়, সকল ভারতীয়দের টিকাকরণ প্রয়োজন, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত ভারতে অনুমোদিত প্রত্যেকটি টিকাই দুটি ডোজের। ভারতের বিপুল জনগণকে দুটি করে ডোজ দেওয়াটা প্রচুর সময় সাপেক্ষ। এই  ধরণের সমস্যার সমাধান করতে পারে একটি ডোজের ভ্যাকসিন স্পুটনিক লাইট, যা তাদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি-এরই একটি একডোজের সংস্করণ।

বৃহস্পতিবারই, রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা আরডিআইএফ (RDIF) স্পুটনিক ভ্যাকসিনের এই এক ডোজের সংস্করণকে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। স্পুটনিক ভি টিকার প্রস্তুতকারক, মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটই এই এক ডোজের টিকাটি তৈরি করেছে। মূলত এটি স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিনেরই একটু কমা সংস্করণ। আরডিআইএফ জানিয়েছে, যেখানে স্পুটনিক ভি টিকার দুটি ডোজ নিলে তা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ৯৭.৬ শতাংশ কার্যকর হয়, সেখানে এক ডোজের এই টিকাটি কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে ৭৯.৪ শতাংশ কার্যকর হবে। এর দাম পড়বে ১০ ডলার অর্থাৎ ৭৫০ টাকারও কম।

স্পুটনিক ভি থাকতে আবার কেন এই কম কার্যকর টিকাটি তৈরি করা হল? রাশিয়া জানিয়েছে, প্রধানত এটি কোভিডের তীব্র প্রাদুর্ভাবের কবলে থাকা যে দেশগুলিতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের দরকার, সেইসব দেশে কাজে লাগবে। যেমন ভারতে এখন দ্রুত সকলকে টিকা দেওয়া দরকার। দুটির বদলে এই একটি ডোজের টিকায় সেই কাজ করা সম্ভব হবে। এতে করে আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে এবং হার্ড ইমিউনিটি বা গোষ্ঠী অনাক্রম্যতা অনেক দ্রুত তৈরি হবে। দুটির বদলে একি ডোজেই কাজ হওয়ায়, বস্তুত টিকাকরণের হার দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

এখনও রাশিয়ার প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষকে স্পুটনিক ভি-র দুটি ডোজই দেওয়া হয়েছে। তবে, অন্যান্য দেশের তুলনায় রাশিয়ায় টিকা দেওয়ার গতি বেশ ধীর বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে বলছেন, নিজেদের দেশের মানুষকে ভ্যাকসিন দেওার থেকে ইউরোপিয় দেশগুলিতে রফতানিতেই বেশি মনোযোগ রয়েছে রুশ সরকারের। তবে ইউরোপিয় মেডিসিন এজেন্সি এখনও এই টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। তবে ভারতে স্পুটনিক ভি টিকাকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুধু ভারতই নয় আরও ৬৩টি দেশ সস্পুটনিক ভি টিকা দেওয়ার জন্য নথিভুক্ত করেছে।

এই অবস্থায় রাশিয়া আশা করছে, এই ৬৪ টি দেশেই স্পুটনিক লাইট ভ্যাকসিন-ও ব্যবহারের অনুমোদন দেবে। ইতিমধ্যেই স্পুটনিক ভ্যাকসিন উৎপাদন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চিন-সহ মোট ১০টি দেশের ২০টিরও বেশি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। রাশিয়ার টিকার দুটি সংস্করণই তৈরি করবে এই সংস্থাগুলি। তাই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভারতেও তৈরি হবে স্পুটনিক লাইট টিকা। স্পুটনিক ভি-কে ভারতের ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা জরুরীভাবে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। এবার এই টিকার নয়া এক ডোজের সংস্করণটিকেও ভারতে ব্যবহার করা হয় কি না, সেটাই দেখার।