করোনাভাইরাস-কে খুব বড় বিপদ বলে মনে হচ্ছে? তার থেকেও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে আগামীদিনে। করোনাভাইরাস-এর প্রাদুর্ভাবকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে বিশ্ব বড় বড়দেশগুলি যেভাবে হিমশিম খাচ্ছে, তাতে করোনা থাবা তুলে নিলেও তারপরই বিশ্বজুড়ে চরম  খাদ্যসঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে বুধবার সতর্ক করল তিনটি আন্তর্জাতিক সংত্থা - রাষ্ট্রসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার প্রধানরা।

বিশ্বব্যাপী সরকারের পক্ষ থেকে নভেল করোনভাইরাস-এর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে জনগণকে লকডাউনের আওতায় আটকে রাখার চেষ্টা করছে। এতে করে মারাত্মক মন্দার মুখোমুখি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা। তারমধ্যে বিশ্বজুড়ে মানুষের প্যানিক বাইং অর্থাৎ আতঙ্কে বেশি করে কেনাকাটা করায় অবস্থা আরও কারাপ হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক দেশে সুপার মার্কেট তাকগুলি সম্পূর্ণ খালি হয়ে গিয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান কু দোংই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল তেদ্রোস অ্যাধানম এবং বিস ঘেব্রেইয়েসুস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর রোবের্তো আজেভেদো, বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, খাবার পাওয়া যাবে কিনা এই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে, অনেক দেশেই রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির এক প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাদ্য সংকট এড়াতে গেলে, কোভিড-১৯ লকডাউনের মাঝে বাণিজ্য যাতে যথাসম্ভব অবাধে চলতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নাগরিকদের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্যই এই লকডাউন। তাই প্রতিটি দেশকে এই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাদের বাণিজ্যিক কোনও সিদ্ধান্তে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলায় ব্যাহত না হয়।

তাঁদের মতে দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার ফলে এই মুহূর্তে বিশ্বের সব দেশেই খেতমজুরের অভাব রয়েছে। সেইসঙ্গে বাজারে খাদ্যপণ্য পৌঁছনোও সমস্য়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্ত কারণে কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কৃষি ও খাদ্যশিল্পের শ্রমিকদের চলাচলে বাধা, সীমান্ত ফুড কন্টেনারগুলি পরীক্ষায় সময় বেশি লাগা এই জাতীয় বাধার ফলে বিপুল পরিমাণে পচনযোগ্য খাদ্য নষ্ট হচ্ছে।

খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি, খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিতরণে নিযুক্ত কর্মচারীদের সুরক্ষার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে এই তিন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান। তাঁদের মতে এই বিপর্যয়ের সময়েই আরও বেশি করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন। তাঁদের মতে কোভিড-১৯'কে রুখতে গিয়ে অজান্তেই প্রয়োজনীয় পণ্যগুলির সংকট তৈরি না করে ফেলি যাতে, ক্ষুধা ও অপুষ্টির সমস্যা আরও বেড়ে যায়, সেইদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এদিন রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কোভিড-১৯ সঙ্কটকে দ্বিতীয় বিশ্বয়ুদ্ধের থেকেও বডড় বিপর্যয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।