- Home
- World News
- International News
- আলোচনার সময় নেই 'Too Late'! ইরানের শান্তির আবেদন ফিরিয়ে যুদ্ধ চালানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের
আলোচনার সময় নেই 'Too Late'! ইরানের শান্তির আবেদন ফিরিয়ে যুদ্ধ চালানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের
Iran-US War: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা যখন চরমে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিলেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনার আর কোনও সময় নেই। যদিও ইরান জানিয়েছে, তারা ‘মর্যাদার সঙ্গে’ আলোচনায় প্রস্তুত। অর্থাৎ যুদ্ধ চলবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

আলোচনায় রাজি ইরান
শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ উদ্যোগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাই আলি খামেনেইকে হত্য়া করেছিল। পাল্টা ইজরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় তছনচ করে দিয়েছে ইরান। পরিস্থিতি ক্রমশই ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ইরানে ৮০০-র বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
যুদ্ধ চালানোর ইঙ্গিত
পশ্চিম এশিয়ায় যখন পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সময় পেরিয়ে গেছে। তাঁর কথায়, এখন আর কথা বলে লাভ নেই।
ইরানের বাহিনী শেষ হয়ে গেছে!
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নেতৃত্ব, তাদের বায়ুসেনা, নৌসেনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সবই "শেষ" হয়ে গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প পোস্ট করেন, "ওদের এয়ার ডিফেন্স, এয়ার ফোর্স, নেভি আর নেতৃত্ব—সব শেষ। ওরা এখন কথা বলতে চায়। আমি বলেছি, 'অনেক দেরি হয়ে গেছে' (Too Late)।"
আলোচনায় বসতে চায় ইরান
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ঠিক আগেই ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা সাইয়্যেদ আলি খামেনির প্রতিনিধি ডঃ আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি সংবাদ সংস্থা ANI-কে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে মর্যাদার সঙ্গে।"
আক্রমণ চালাচ্ছে ইজরায়েলও
অন্যদিকে, ইজরায়েল দাবি করেছে যে তারা সম্প্রতি ইরানে হামলা চালিয়ে এক সিনিয়র কমান্ডারকে নিশানা করেছে। যদিও এই অভিযানের ফলাফল নিয়ে ইজরায়েলি সেনা বিস্তারিত কিছু জানায়নি বলে আল জাজিরা সূত্রে খবর।
মার্কিন সংসদে ইরান হামলা নিয়ে চিঠি
এর আগে ফক্স নিউজ জানিয়েছিল, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার বিষয়ে কংগ্রেসকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি এই সামরিক অভিযানের স্বপক্ষে যুক্তি দেন। চিঠিতে ট্রাম্প জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইজরায়েল-সহ আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলির আত্মরক্ষা নিশ্চিত করা।
ট্রাম্পের নির্দেশেই হামলা
ট্রাম্প চিঠিতে লেখেন, "আমার নির্দেশে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক জায়গায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল ব্যালিস্টিক মিসাইল ঘাঁটি, সমুদ্রে মাইন পাতার সরঞ্জাম, এয়ার ডিফেন্স এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার। এই হামলা চালানো হয়েছে অঞ্চলে থাকা মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে, আমেরিকার ভূখণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার মতো মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে এবং আমাদের আঞ্চলিক মিত্র, যেমন ইজরায়েলের আত্মরক্ষার জন্য।"
মার্কিন সেনার অবস্থান
তিনি আরও যোগ করেন যে এই হামলায় কোনও মার্কিন সেনা মাটিতে লড়াইয়ে অংশ নেয়নি। পুরো অভিযান এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কম হয় এবং ইরানের ক্ষতিকর কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়।
মৃত্যুপুরী ইরান
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি আজ জানিয়েছে, শনিবারে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রী নিহত হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ তাদের শেষ যাত্রায় সামিল হন।
প্রেস টিভির শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়া ছাত্রীদের জন্য বিশাল শোকমিছিলে অংশ নিয়েছেন অগণিত মানুষ।
যুদ্ধ চলছে
মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনি-সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত চতুর্থ দিনে পড়ল। এর জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইজরায়েলি সম্পত্তিতে আঘাত হেনেছে।

