ভারতে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গে। আর এই দ্বিতীয় তরঙ্গে রীতিমত বিপর্যস্ত দেশ। নিত্যদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। করোনা-সংক্রমণ রুখতে ক্রমশই চাহিদা বাড়ছে ভ্যাকসিন বা করোনা টিকা। কিন্তু বর্তমানে দেশে টিকার যোগান না থাকলেই জুন মাস থেকে তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও দাবি করা হয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে জানান হয়েছে বছর শেষ হওয়ার আগেই ভারতের হাতে ২১৬ কোটি করোনা টিকার ডোজ থাকবে। নীতি আয়োগের সদস্য ভিকে পল জানিয়েছিলেন, ধীরে ধীরে টিকার সংকট কেটে যাবে। আগামী অগাস্ট মাস থেকে এদেশে টিকার উৎপাদন বাড়বে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

কেন্দ্রীয় সরকার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশে উৎপাদন হবে অথবা হাতে থাকবে কোভিশিল্ড, কোভ্যাকসিন, বায়ো ই সাব ইউনিট ভ্যাকসিন, জাইডাস ক্যাডিলার ডিএনএ ভ্যাকসিন, সেরামের নোভাভ্যাক্স, ভারত বায়োটেকের ন্যাজাল ভ্যাকসিন, জিননোভার ভ্যাকসিন, স্পুটনিক ভি। এই ভ্যাকসিন গুলি দেশে উৎপাদন হবে। আর তা দেশের মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন বলেও জানান হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। 

কোভিশিল্ড
এখনও পর্যন্ত সবথেকে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে এই কার্যকারিতা ৯০ শতাংশ। অ্যাস্ট্রোজেনেকা ও অক্সফোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এইটি তৈরি হয়েছে। উৎপাদন করছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। অগাস্ট থেকে ডিসেম্বের মধ্যে ভারতীয়দের জন্য কোভিশিল্ডের ৭৫ কোটি ডোজ উৎপাদন করা হবে বলেও জানান হয়েছে। 

কোভ্যাকসিন
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভ্যাকসিন। এটি তৈরি করেছে ভারত বায়োটেক, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল সায়েন্স ও পুনের ভাইরোলজিক্যাল। অগস্ট থেকে ডিসেম্বর ৫৫ কোটি ডোজ তৈরি হবে। 
করোনার বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা ৮১ শতাংশ। 

স্পুটনিকভি
রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিনের দেড় লক্ষ ডোস চলে এসেছে ভারতে। আগামী সপ্তাহ থেকে ভারতে বিক্রি করা হবে এই করোনা টিকা। জিএসটি দিয়ে  দাম পড়বে প্রায় হাজার টাকা।  এক কার্যকারিতা ৯১.৬ শতাংশ। এটিও তৈরি হবে দেশে। ডক্টর রেড্ডি এই ভ্যাকসিনের  ১৫.৬ কোটি ডোজ তৈরি করবে। এটি ২১ দিনের অন্তরে নিতে হবে। তবে এটির একক ডোজের টিকাও রয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেটি ভারতে আসবে। 

নোভাভ্যাক্স
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করোনা টিকা। কার্যকারিতা ৮৩.৩ শতাংশ। আগামী দিনে এটি ভারতে তৈরি করবে সেরাম।  এইচআইভি আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি ৫৫ শতাংশ কার্যকর। এটি ৫৫ কোটি ডোজ তৈরির জন্য চুক্তি হয়েছে। 

ভারত বায়োটেকের ন্যাজাল ভ্যাকসিন
ইনজেকশন নিতে যাঁরা ভয় পান বিশেষত তাদের জন্যই এই টিকা। ভারতের বায়োটেকের অনুনাসিক টিকা। ডিসেম্বরে ১০ কোটি ডোজ হাতে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৫টি কেন্দ্রে তৃতীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। 

জাইডাস ক্যাডিলা
এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হয়নি। তবে অগাস্ট মাসে এটি ৫ কোটি ডোজ টিকা তৈরি করতে সক্ষম হবে বলেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটি তিন ডোজের ভ্যাকসিন। নাম দেওয়া হবে জেওয়াইসিওভি-ডি। এটিও সম্পূর্ণ দেশীয় প্রয়ুক্তিতে তৈরি করোনা টিকা। 

জেন্নোভা এমআরএনএ ভ্যাকসিন 
পুনের বায়ো ফার্মাসিউটিক্যাল এই টিকা তৈরি করবে। মূলত এটি তৈরি করেছে মার্কন সংস্থা। দ্বিতীয় দফার ট্রায়াল চলঠছে। এটির ৬ কোটি ডোজ তৈরি হবে ভারতে। 

বায়ো ই সাব ইউনিট ভ্যাকসিন
হায়দরাবাদের সংস্থা বায়লজিক্যাল ই লিমিটেডন এই ভ্যাকিসন তৈরি কবে। তৃতীয় দফার ট্রায়াল শুরু হয়েছে। অগাস্ট থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৩০ কোটি করোনা টিকার ডোজ সরবরাহ করতে পারবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। 

ফাইজার মোডার্না জনসন অ্যান্ড জনসন 
এই আটটি করোনা টিকা ছাড়াও ভারতীয়া ফাইজান মোডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাই হাতে পারে পারেন। আরও তিনটি করোনা টিকা বিদেশ থেকে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। 
 

"