বিহারের পর এবার উত্তর প্রদেশ। গঙ্গায় ভেসে  যাচ্ছে একের পর এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ। যা নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে উত্তর প্রদেশের গাজিপুরে। স্থানীয়দের কথায়, প্রায় শতাধিক লাস ভেসে বেড়াতে দেখা গেছে পবিত্র গঙ্গা নদীতে। স্থানীয়দের দাবি দেহগুলি করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের। তবে নদীতে করোনারোগীর মৃতদেহ ভেসে বেড়ানোয় ক্ষুদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, নদীর জল দুষিত হচ্ছে। পাশাপাশি গোটা এলাকায় দুষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

গাজিপুরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশের করোনা পরিস্থিতি অন্যান্য রাজ্যগুলির মতই ভয়ঙ্কর। গ্রামের শ্মশনাগুলিতে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট করোনা বিধি নেই। সেই কারণেই অকেন শ্মশান কর্তৃপক্ষ করোনা রোগীর দেহ দাহ করতে রাজি হন। স্থানীয়দের আশঙ্কা সেই কারণেই করোনা রোগীর দেহ মৃতের পরিবারই গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা মৃতদেহগুলি থেকে নদীর জল দুষিত হট্ছে। একই সঙ্গে মারাত্মক ছোঁয়াছে ভাইরাস দ্রুত অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ছে। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। 

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, গাজিপুরের জেলা শাসক এমপি সিং তদন্ত শুরু করেছেন। ঘটনাস্থলে গেছে সরকারি অধিকর্তারা। কোথা থেকে মৃতদেহ আসছে তাও খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

গতকালই বিহারের বক্সা জেলা সংলগ্ন গঙ্গায় ভাসতে দেখাগিয়েছিল প্রচুর মৃতদেহ। স্থানীয়দের দাবি ছিল দেহগুলি আক্রান্তদের। বক্সার উল্টোদিকে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ ও বারানসী পড়ে। তাই সেখানে থেকে মৃতদেহগুলি ভেসে এসেছে বলেও দাবি করেছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তড়িঘড়ি জল থেকে দেহগুলি তুলে সৎকারের ব্যবস্থাও করে। গতকালই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র শেখাওয়াত বক্সার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে তাৎক্ষনিক নজরদারি চালাতে বলেন। শেখাওয়াত টুইট করে বলেছিলেন মোদী সরকার গঙ্গার পরিচ্ছন্নতার জোর দিচ্ছে। তারপর এই ঘটনা অপ্রত্যাশিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।