করোনামহামারির মধ্যেই এবার ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগ। তাই করোনাভাইরাসের ওষুধের যেমন চাহিদা বেড়েছে তেমনই বেড়েছে কালো ছত্রাক রোগের ওষুধের চাহিদা। মূলক অ্যান্টি ফাঙ্গাল জাতীয় ওষুধগুলি এই রোগের ক্ষেত্র কার্যকর। ভয়ঙ্কর এই রোগে মৃত্যুর খবরও সামনে আসছে। গতবছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভায়বহ আকার নেওয়ার পর থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রে। তবে যাঁরা মারা গিয়েছিলেন তাঁরা অবশ্য কোভিডে আক্রান্ত হয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রী রাজেশ টোপে জানিয়েছিলেন বর্তমানে সে রাজ্যে কালো ছত্রাকে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। প্রতিবেশী রাজ্য গুজরাতেও  এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। রাজ্যের প্রায় ৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে। 


ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কারণে মাইক্রোমাইকোসিস সংক্রমণকারী আরও আরএ বেশি লোকের মধ্যে লিপোসোমাল অ্যামফোটেরিকিন বি ইনজেকশনের চাহিদা বেড়েছে। এই রোগের চিকিৎসায় যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হত তার মধ্যে এটাই মূল ওষুধ। কিন্তু বর্তমানে এটির চাহিদা প্রবলভাবে বৃষ্টি পেয়েছে। পাল্লা দিয়ে যোগান কমেছে বলেও অভিযোগ করেছেন আক্রান্তের পরিবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহারাষ্ট্রের এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন আগে এজাতীয় ওষুধের খোঁজ করতেন দিনে ৩-৪ জন। এখন সেখানে নিত্যদিনই এজাতীয় ওষুধ চাইছেন ৫-৭ জন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এই ওষুধের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও। ওষুধটির দাম ৪৫০০ থেকে ১২০০০ টাকা। 

কর্ণাটক- গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন হাসপাতালে  ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত প্রায় ৭৫ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। মহীশূর ও বেলগাভি এলাকাতেও এই রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কর্ণাটক সরকার জরুরি ভিত্তিতে এই রোগের চিকিৎসার ব্যবস্তা করেছে। পাশাপাশি ওষুধ ও ইনজেশনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

মহারাষ্ট্র- কালো ছত্রাকের সব থেকে বেশি প্রোকপ দেখা গেছে মহারাষ্ট্রে। এই রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রায় ৫ হাজার ইনজেকশন বিতরণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার আরও বেশি ইনজেকশন সংগ্রহ করছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে। 

গুজরাত- ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিশেষ ওয়ার্ড চালু করেছে। ব্যক্তিগতভাবে এই রোগর ওষুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিন রাজ্য ইতিমধ্যে ১ লক্ষেরও বেশি এই রোগের ওষুধের অর্ডার দিয়েছে। 

অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের ওষুধ ব্যবসারী জানিয়েছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ ও ইনজেকশনের চহিদার গত দু সপ্তাহ ধরে প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পয়েছে। কিন্তু চাহিদা মত যোগানে অমিল দেখা দিয়েছে। তবে উত্তর প্রদেশের সরকারি নথি এখনও পর্যন্ত এই রোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি। হরিয়ানা, দিল্লি, মধ্য প্রদেশ-এই তিন রাজ্যেও কালো ছত্রাক রোগের প্রকোপ বেড়েছে। দিল্লিতে ইতিনমধ্যেই ১০০ জনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মধ্য প্রদেশ সরকারও এই রোগের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ওয়ার্ড তৈরির নির্দেশ দিয়েছে পাঁচতি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে। কেন্দ্রীয় সরকারই জানিয়েছে দ্রুততার সঙ্গে এই রোগের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ওষুধের সংগ্রহ বাড়িয়ে তোলা হবে। 

আক্রান্ত হওয়ার সম্ভানা- 
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেজিক্যাল রিসার্চের জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব কোভিড রোগীরা ডায়াবেটিশে ভুগছেন তাঁদারে মধ্যে ব্ল্য়াক ফাঙ্গাস রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। এছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন আইসিইউতে থাকা, স্টেরয়েড ব্যবহার, কোমর্বিডিটি-পোস্ট ট্রান্সপ্যান্টে আক্রান্তদের সাবধানে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।করোনা আক্রান্তদের শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এজাতীয় রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলেও বলা হয়েছে। 

লক্ষণঃ
চোখ অথবা নাকের চারপাশে ব্যাথা অথবা লালচে ভাবে থাকবে। জ্বর, মাথা ব্যাথা, কাশি হবে। নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হবে। রক্ত বমি হতে পারে। মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। সাইনোসাইটিস বা নাক ও গলা বন্ধ হয়ে যাওয়া। নাক দিয়ে কালচে ও লাল শ্রাব বার হওয়ায়। গলায় ও দাঁতে ব্যাথা। মুখে অসাড়তা ও ফোলা ভাব। দেখতে সমস্য়া হওয়া। বুকে ব্যাথা অথবা শ্বাসকষ্টও হতে পারে এই রোগে আক্রান্তদের।