আরও পথ। আরও পথ। হাতে সময় খুব কম। সূর্যের চোখ রাঙানো উপেক্ষা  করে হাঁটতে হচ্ছে। খাবার বলতে একটা কি দুটে বিস্কুটের প্যাকেট।  টাইম কল অথবা ডিপ টিউবওয়েলর জলই ভরসা। যে করেই হোক বাড়ি ফিরতেই হবে। বাড়িতে পা না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই। সবমিলিয়ে কিছুটা দিশেহারা উত্তর প্রদেশের কয়েক জন শ্রমিক। তারওপর পুলিশের নজর এড়িয়ে পথ চলা। লকডাউনের সময় যা রীতিমত কঠিন কাজ। উন্নয়র একটি ইস্পাত কারখানায় কাজ করেন বারাবাঙ্কির বাসিন্দা কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু গতকাল রাত আটটার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লকডাউনের কথা ঘোষণা করেন। তারপরই কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েদেয় শ্রমিকদের এলাকা খালি করতে হবে। আর কোনও পথ খোলা না থাকায় রাতের অন্ধকারেই ওঁরা বেরিয়ে পড়েছেন। সেই থেকে হেঁটে চলেছেন মাইলের পর মাইল। 

আরও পড়ুনঃ লকডাউনের দিল্লিতে কোনও মানুষই খালি পেটে থাকবেন না, আশ্বস্ত করলেন কেজরিওয়াল.

আরও পড়ুনঃ দেশের লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা, মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সামাজিক দূরত্ব বজায়

আরও পড়ুনঃ দেশে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি, এড়িয়ে চলুন বাতানুকূল মেশিন, পরামর্শ উদ্ধব ঠাকরের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বছর কুড়ির এক শ্রমিক জানিয়েছেন, গত জানুয়ারিতেই তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এই প্রথম তাঁর বাড়ি ফেরা। কিন্তু তাঁর বাড়ি ফেরা যে এতটা ভয়ঙ্কর হবে তা তিনি করল্পাও করতে পারেননি। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারবেন বলেই জানিয়েছেন। এই সময়টা টানা হেঁটেই যেতে হবে তাঁদের। থামলে চলবে না। 

অভিবাসী শ্রমিকদের দলে রয়েছে ৫৫ বছরের এক শ্রমিক। তিনি জানিয়েছেন, প্রখর রোদে পথ চলতে সমস্যা হচ্ছে। তারওপর কাল থেকেই তার পেটে কোনও দানাপানি পড়েনি। রাস্তার ধারের সমস্ত দোকানই বন্ধ। রাস্তার কলের জল খেয়েই পথ চলতে হচ্ছে। খাবার বলতে একটা বিস্কুটের প্যাকেট রয়েছে সঙ্গে। তবে লম্বা এই সফর তাঁর কাছে বেশ কষ্টকর বলেও জানিয়েছেন। উন্নাওর সামীনা পার হওয়ার আগেই উত্তর প্রদেশের পুলিশ তাঁদের একবার আটকে ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাই তারপর থেকে রীতিমত সচেতন হয়েই পথ চলতে হচ্ছে তাঁদের।