করোনাভাইরাসের তৃতীয় তরঙ্গ নিয়ে সতর্ক বার্তা  দিয়েছেন ভারত সরকারের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কে বিজয় রাঘাওয়ান। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছে দেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় তরঙ্গ অনিবার্য। এখনই যদি সাবধান হওয়া যায় তবে তা এড়ানো সম্ভব। কিন্তু অসাবধানতা রীতিমত বিপদ ডেকে আনবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, মহামারিটি বর্তমানে শিখরে রয়েছে। গোটা দেশেই তা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী উপস্থিত হলে সংক্রমণ ঘটে। 

রাঘয়াওয়ান বলেছেন, তরঙ্গ ও তার সংখ্যার পরিবর্তে সংক্রমণের অবস্থান সময় ও তীব্রতা নিয়ে আলোচনা করাই অত্যন্ত জরুরি। আর সবকিছু বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ রুখে দিতে সক্ষম একমাত্র দেশের মানুষের সতর্কতা। তিনি বলেন 'আমরা যদি এখনও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করি তাহলে করোনার তৃতীয় তরঙ্গ সব জায়গায় দেখা নাও যেতে পারে।' করোনা তৃতীয় তরঙ্গ নির্ভর করছে রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর। রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসন করোনা মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার ওপরই নির্ভর করছে। তিনি বলেন সংক্রমণ বন্ধ করতে সবথেকে উপযোগী পরীক্ষা, চিকিৎসা, ও কনট্র্র্যাক্ট ট্রেসিং। এটি কঠিন হলেও গুরুত্ব সহকারে করলে তবেও করোনার তৃতীয় তরঙ্গ প্রতিহত করা যাবে। 

তিনি আরও বলেছেন খুব সহজ কথায় বলতে গেলে মানুষই ভাইরাসটিকে ছড়াতে সুবিধে করে দেয়। যদি মানুষের সংস্পর্শে তা  না আসে তবে তা সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। তাই সংক্রমণ রুখতে মাস্কের ব্যবহার নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা ও টিকাকরণের ওপরেই জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়েদিয়েছেন ভাইরাসটির ভবিষ্যৎও আমাদের ওপর নির্ভর করছে । মনে রাখা জরুরি যে উপসর্গ বিহীন মানুষও সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। তরাঘাওয়ান বলেছেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভাইরাসটির সর্বাধিক স্তরের কারণে মহামারির তিনটি পর্যায় অনিবার্য। তবে এর সময় ও পরিমাণ এখনও পরিষ্কার নয়। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। দেশের জনগণের সতর্কতা মূলক পদক্ষেপই প্রথম তরঙ্গের বিস্তারকে থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল।