বিশেষজ্ঞদের মত কোভিড মহামারির তৃতীয় তরঙ্গ অনিবার্য।  বিশেষজ্ঞদের এই মন্তব্য কে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারকে তৃতীয় তরঙ্গ থেকে বাঁচার জন্য সবরকম প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিত নিতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি এমআর শাহর ডিভিশন বেঞ্চ ১৮ উর্ধ্বদের দ্রুততার সঙ্গে টিকাকরণের ওপরেও জোর দিয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ যখন এই দেশে আছড়ে পড়বে তখন তা প্রভাব ফেলবে শিশুদের ওপরেও। শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেহলে সেখানে শিশুটির মা ও বাবাকেও যেতে হবে। তাতে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বড়বে। সেই কারণেই ১৮ উর্ধ্ব সকলের  টিকাকরণের ওপর জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেই সমস্ত পরিকল্পনা করা উচিৎ। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে 'আজ যদি প্রস্তুত হই তাহলে এটি পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।' সুপ্রিম কোর্টের মূল বক্তব্যই হল তৃতীয় তরঙ্গ মোকাবিলায় গোটা দেশ জুড়েই সবরকমের প্রস্তুতি শুরু করা। কেন্দ্রীয় সরকারকে অক্সিজেনের সরবরাহ, শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলেছে। 
 

এদিন শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে করোনা মহামারির তৃতীয় তরঙ্গের চ্যালেঞ্জ মোকালিবার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানোর পথ খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছে। এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পিজি কোর্সে ভর্তির জন্য অপেক্ষারত পড়ুয়াদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা যায় কিনা তাও খতিয়ে দেখতে আহ্বান জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে বলা হয়েছে দেশে দেড় লক্ষ চিকিৎসক রয়েছেন। যাঁরা মেডিক্যাল কোর্স শেষ করেছেন। দেড় লক্ষ চিকিৎসক ও আড়াই লক্ষ নার্স ঘরে বসে রয়েছেন। তৃতীয় তরঙ্গে তাঁদের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলেও পর্যবেক্ষণ বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচুড়ের। 
 
দিল্লিতে অক্সিজেন সরবরাহ সংক্রান্ত দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলার দায়ের হয়েছে। সেই মামলার শুনানিতেই এই পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। গতকালই আদালত কেন্দ্রকে দেওয়া অবমাননার নোটিশ স্থগিত করেছিল। দিল্লিতে প্রয়োজনীয় ৭০০ মেট্রিকটন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছিল।