দেশের মাটিতে এবার তৈরি হতে পারে রাশিয়ান ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি। এমনই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতে স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন তৈরি করার অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা ডিসিজিআইকে চিঠি দিয়েছে সেরাম। তারা ভারতে স্পুটনিক ভি তৈরি করতে চায়, এই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। 

পুনের এই ভ্যাকসিন উৎপাদকারী সংস্থা ওই ভ্যাকসিনের টেস্ট অ্যানালাইসিস ও পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্যও অনুমতি চেয়েছে। বর্তমানে স্পুটনিক ভি তৈরি করছে ডঃ রেড্ডিস ল্যাবরেটরি। স্পুটনিক ভি-র কার্যকারিতা ৯১.৬ শতাংশ। এটিও তৈরি হবে দেশে বলে জানা গিয়েছে। আগে জানানো হয়েছিল ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরি এই ভ্যাকসিনের  ১৫.৬ কোটি ডোজ তৈরি করবে। এটি ২১ দিনের অন্তরে নিতে হবে। তবে এটির একক ডোজের টিকাও রয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেটি ভারতে আসবে।

ইতিমধ্যেই দু দফায় ভারতের বাজারে এসে পৌঁছেছে এই ভ্যাকসিন। প্রথম পর্যায়ে দেড় লক্ষ ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ষাট হাজার ডোজ ভ্যাকসিন এসে পৌঁছেছে ভারতে। মে মাসের শেষের মধ্যে মোট ৩ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পেয়ে যাবে ভারত বলে খবর। জুনে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লক্ষ। অগাষ্টের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৪০ মিলিয়ন ডোজ উৎপাদন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে জানানো হয় বছর শেষ হওয়ার আগেই ভারতের হাতে ২১৬ কোটি করোনা টিকার ডোজ থাকবে। নীতি আয়োগের সদস্য ভিকে পল জানিয়েছিলেন, ধীরে ধীরে টিকার সংকট কেটে যাবে। আগামী অগাস্ট মাস থেকে এদেশে টিকার উৎপাদন বাড়বে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার তৈরি স্পুটনিক ভিকে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২১ সালের পয়লা মে অনুমোদন দেয়। ১৪ই মে এর প্রথম ব্যাচ ভারতে আসে।

দিন কয়েক আগেই রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত ডি বালা ভেঙ্কটেশ বর্মা জানান, আগামী তিনটি পর্যায়ে ভারতে ৮৫০ মিলিয়ন স্পুটনিকের ডোজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে রাশিয়ার।