করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেনের খোঁজ মিলল ভিয়েতনামে। এই স্ট্রেন আরও বেশি শক্তিশালী ও আরও বেশি মাত্রায় মানুষকে সংক্রামিত করার ক্ষমতা রাখে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের দাবি এই করোনার এই নতুন রূপটি (New Covid Variant) বাতাসে দ্রুত ছড়াতে পারে, ফলে এর সংস্পর্শে আসা মানুষ দ্রুত সংক্রামিত হন। 

এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ইতিমধ্যেই ভিয়েতনামের অসংখ্য মানুষকে সংক্রামিত করেছে। ভিয়েতনাম প্রশাসনের দাবি এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ব্রিটেন ও ভারতের করোনার রূপের যৌথ মিশ্রণ। করোনা এখনও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে গোটা বিশ্বে। ইতিমধ্যেই ৩৫ লক্ষ মানুষ করোনায় মারা গিয়েছেন, অন্যদিকে আক্রান্ত হয়েছে ১৬ কোটিরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে নয়া স্ট্রেনের দেখা মেলায় বেশ চিন্তায় বিজ্ঞানীরা। 

বিশেষজ্ঞদের দাবি এই নয়া ভ্যারিয়েন্ট গলায় লালা রসের মধ্যে আটকে থাকে। ফলে হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে দ্রুত বাতাসে বেরিয়ে আসে। এয়ারোসোলের মাধ্যমে তা অন্য ব্যক্তির কাছে পৌঁছয়। দ্রুত তাঁদের সংক্রামিত করে। ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিউয়েন থন জানান ভিয়েতনামে এই নতুন করোনার রূপে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তার সংখ্যা এখনও মেলেনি। তবে খুব তাড়াতাড়ি সেই সংখ্যা প্রকাশ করা হবে। সোমবারই হো চি মিনের  ৯০ লক্ষ মানুষের করোনা পরীক্ষা করানো হবে বলে জানানো হয়েছে। 

হো চি মিনের প্রত্যেক বাসিন্দাকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই সঙ্গে ১০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী দু সপ্তাহ কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া, বাকি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভিয়েতনাম নিউজ জানাচ্ছে প্রতিদিন এক লক্ষ করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে দেশে। 

এপ্রিল মাস থেকে ভিয়েতনামে ভারত ও ব্রিটেনের নয়া ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান মিলেছে। ২০২০-র জানুয়ারি মাসে প্রথম করোনা ভাইরাসের সন্ধান মিলেছিল। তবে এই স্ট্রেনের ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা, এমন তথ্য মেলেনি। ভিয়েতনামে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭০০ জন। তবে বেশিরভাগ রোগীকেই শনাক্ত করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এপ্রিল মাস থেকে করোনা পরীক্ষার ওপর জোর দিতে বলা হয়। ফলে করোনা পরীক্ষার গতি বাড়ে। ক্রমশ বাড়তে থাকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।