১৯৯১ সালের ৪ জুন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জন্মেছিলেন বেন স্টোকস। তাঁর বাবা- মা এখনও নিউজিল্যান্ডেই থাকেন। কিন্তু ২০০৩ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে ইংল্যান্ডেই বসবাস করেন বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার। সেদেশের নাগরিকত্বও অনেক দিন আগেই পেয়ে গিয়েছেন স্টোকস। 

আরও পড়ুন- ৭টি চার-ছয়ের ব্যবধানে বিশ্বজয়ী ইংল্যান্ড! ৫১ ওভারেও আলাদা করা গেল না দুই দলকে

বিশ্বকাপ ফাইনালে সবাই যখন ধরে নিয়েছেন আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে ইংল্যান্ডের, তখন কার্যত একা হাতে ম্যাচ ড্র করেন স্টোকস। ৮৪ রানে নটআউট থাকেন তিনি। এর পরে সুপার ওভারেও জস বাটলারের সঙ্গে মিলে তোলেন ১৫ রান। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডও সুপার ওভারে সমসংখ্যক রান তোলায় বেশি বাউন্ডারি মারার জন্য চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। 

ছেলের এই সাফল্যকেও পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না বেন স্টোকসের বাবা জেরার্ড স্টোকস। কারণ একদিকে যখন ছেলের সাফল্যে তিনি দারুণ খুশি, অন্যদিকে নিজের দেশ নিউজিল্যান্ড পরাজিত হওয়ায় হতাশ স্টোকস সিনিয়র।  তিনি নিজে নিউজিল্যান্ডের রাগবি লিগে একসময়ে চুটিয়ে খেলেছেন। কিন্তু ছোট থেকেই বেনের ঝোঁক ছিল ক্রিকেটের দিকে। বেন স্টোকসের যখন বারো বছর বয়স, তখন তাঁর বাবা ইংল্যান্ডের একটি রাগবি দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব পান। সেই সূত্রেই ইংল্যান্ডে আসে স্টোকস পরিবার। এর পর আর নিউজিল্যান্ডে ফেরেননি বেন স্টোকস। যদিও বাবা জেরার্ড এবং মা ডেব ফিরে যান নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। 

নিউজিল্যান্ডে বসেই রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল দেখার পরে বেন স্টোকসের বাবা বলেছেন, 'বুকে হাত রেখেই আমি বলছি, বেন আর ওঁর দলের জন্য আমরা দারুণ খুশি। কিন্তু আমি এখনও একজন নিউজিল্যন্ড সমর্থক।'  কিউইরা এই হারের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বলেও তিনি নিশ্চিত। জেরার্ড স্পষ্টই জানাচ্ছেন, তাঁর ছেলে এখন নিজেকে পুরোদস্তুর একজন ইংরেজ বলেই মনে করেন। ইংল্যান্ডেই বিয়ে করেছেন স্টোকস। তাঁর দু'টি সন্তানও রয়েছে। 

আরও পড়ুন- ফাইনালে অনন্য রেকর্ড কিউই ক্যাপ্টেনের! পিছনে পড়লেন জয়বর্ধনে

অন্যদিকে বেন স্টোকস নিজে জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের কাছে আজীবন ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে থাকবেন তিনি। কারণ, ম্যাচের শেষ ওভারে রান নেওয়ার সময় কিউই ফিল্ডারের ছোড়া বল বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে চার হয়ে যায়। সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারণ হয়ে যায়। খেলা শেষে বেন স্টোকস বলেছেন, 'আমি কেনকে বলেছি যে সারাজীবন এই ঘটনার জন্য ওঁর কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে থাকব। কিন্তু আমি ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করিনি। ওভাবে যে বলটা আমার ব্যাটে লাগবে, সেটাও বুঝতে পারিনি।' এটাই বোধহয় ক্রিকেটের জাদু। জন্মসূত্রে একজন কিউইর হাতেই তাই স্বপ্নভঙ্গ হল নিউজিল্যান্ডের।