রবিবার (৩০ জুন ২০১৯) বিশ্বকাপ ২০১৯-এর ৩৮তম ম্যাচে, বার্মিংহামের এজবাস্টনে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। ঠিক ২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালের ২৯ মে, এই মাঠেই বিশ্বকাপের সুপার সিক্সের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মহম্মদ আজহারউদ্দিনের ভারত ও অ্যালেক স্ট্রুয়ার্টের ইংল্যান্ড। বৃষ্টির জন্য মাঝে খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই বিশ্বকাপে সুপার সিক্সের ম্যাচে রিজার্ভ ডে থাকায় পরের দিন খেলা শেষ করা হয়েছিল। আর মেঘাচ্ছন্ন এজবাস্টনে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

টসে জিতে ভারতকে ব্য়াট করতে ডেকেছিলেন স্ট্রুয়ার্ট। মেঘলা আকাশের নিচে ড্যারেন গফ, অ্যালেন মুলালিদের সামনে ভারত খুব বেশি রান করতে পারেনি। সৌরভের সঙ্গে ইনিংসের সূচনা করেন সদগোপন রমেশ। ১৩তম ওভারে রমেশ ফিরে গেলেও দারুণ ব্যাট করছিলেন সৌরভ। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। কিন্তু ছন্দপতন ঘটে মার্ক এলহাম সৌরভ (৪০)-কে রানআউট করে দেওয়ায়। তার আগে তাঁর ব্য়াট থেকে দর্শনীয় ৬টি চার এসেছিল।  

ক্রিজে এসেছিলেন তেন্ডুলকর। তিনি অবশ্য এই ম্যাচে ২২-এর বেশি করতে পারেননি। দ্রাবিড় (৫৩) অর্ধশতরান করেন। আর বড় রান পেয়েছিলেন অজয় জাদেজা। ৫টি চার মেরে ৩ বলে ৩৯ করেছিলেন তিনি। ভারত সব মিলিয়ে ২৩২/৮ রান তোলে।

ইংরেজরা রান তাড়া করতে নেমে প্রথমেই বিপদে পড়েছিল। শুরু থেকেই দারুণ বল করছিলেন দেবাশীষ মোহান্তি ও জাভাগাল শ্রীনাথ। চতুর্থ ওভারে প্রথম দুই বলেই অধিনায়ক স্ট্রুয়ার্ট (২) ও গ্রেম হিক (০)-কে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মোহান্তি। এরপর ইংরেজ ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন নাসের হুসেন ও গ্রাহাম থর্প।  

সৌরভ বল হাতে ম্যাজিক দেখাতে শুরু করেন ২০তম ওবার থেকে। প্রধান ইংরেজ ব্যাটসম্যান নাসের হুসেন (৩৩)-এর স্টাম্প ছিটকে দেন। ইংরেজদেরও ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া শুরু হয়।

চার ওভার পরেই থর্প (৩৬)-কে এলবিডব্লু করেন শ্রীনাথ। মাঝের ওভারে ফ্লিনটফ (১৫) ও হোলিওকে (৬)-কে ফিরিয়ে দিয়ে ইংরেজদের মেরুদণ্ডও ভেঙে দেন কুম্বলে। ৩৭ ও ৩৯তম ওভারে যথাক্রমে এলহাম (০) ও তখ পর্যন্ত দারুণ ব্যাট করা ফেয়ারব্রাদার (২৯)-কে ফিরিয়ে দিয়ে ইংরেজদের সব আশা শেষ করে দেন দাদা।

৪৫.২ ওভারে ১৬৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জোরে ম্য়াচের সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন আর কেউ নয় এই বাংলার সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়। এদিনও এজবাস্টনে থাকবেন তিনি। তবে ধারাভাষ্যাকারের বক্সে। ২০ বছর আগের সুখস্মৃতি নিশ্চয়ই তাঁর মনে উঁকি দেবে বারবার।