ভারতীয় বোর্ডের অনুরোধে কাজ হল না। বিশ্বকাপে ধোনির উইকেটকিপিং গ্লাভস-এ প্যারামিলিটারির ছুরির প্রতীক থাকার বিষয়ে কঠোর হল আইসিসি। বিসিসিআই-এর অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে জানানো কোনও অবস্থাতেই ধোনি বিশ্বকাপে তাঁর কিপিং গ্লাভসে ওই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।

এক বিবৃতি প্রকাশ করে আইসিসি শনিবার জানিয়ে দিল, বিসিসিআই-এর চিঠির জবাবে তারা ভারতীয় বোর্ডকে জানিয়েছে, এর আগের ম্যাচে ধোনি গ্লাভস-এ যে লোগো ব্যবহার করেছেন তা আর আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯-এ তাঁকে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। বলা হয় আইসিসি পরিচালিত টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ক্রিকেটারদের কোনও পোশাকে বা ক্রিকেট সরঞ্জামে কোনও ব্যক্তিগত বার্তা বা লোগো ব্যবহার করা যায় না। এছাড়া উইকেটকিপারের দস্তানাতেও শুধুমাত্র একটি স্পনসর লোগো ব্যবহার করা যায়। ধোনির গ্লাভসে এমনিতেই 'এসজি' সংস্থার লোগো রয়েছে।

এর আগে অবশ্য ভারতীয় বোর্ডের প্রশাসনিক কমিটির প্রধান বিনোদ রাই দাবি করেছিলেন ধোনি তাঁর গ্লাভসে প্যারামিলিটারির ওই প্রতীক ব্যবহার করায় কোনও বিধি ভঙ্গ হয়নি। কারণ আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনও ধর্মীয় বা বর্ণবাদী, বানিজ্যিক বা সামরিক লোগো ব্যবহার করা যায় না। ধোনির গ্লাভসে যে প্রতীক রয়েছে, তা এর কোনওটিই নয়। ওই ছোরা প্যারামিলিটারি বাহিনীর একটি ইউনিটের লোগো হলেও ওই প্রতীকের নিচে বলিদান শব্দটি থাকে। যা ধোনির গ্লাভসে অনুপস্থিত। তাই, ওই লোগোটিকে সামরিক লোগোও বলা যায় না।

এই বিতর্কে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক আগেই অসংখ্য ভক্তের সমর্থন পেয়েছিলেন। শুক্রবার তাঁকে সমর্থন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু-ও। সেনাপ্রধানও ধোনিকেই সমর্থন করেছেন। সমর্থন এসেছে ক্রিকেটার সুরেশ রায়না, কুস্তিগির যোগেশ্বর দত্তের তরফেও। তবে আইনের বেড়াজালেই আটকে গেলেন প্যারামিলিটারির প্যারাসুট রেজিমেন্টের সাম্মানিক লেফট্যানেন্ট কর্নেল। এরপর বোর্ড কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই চোখ থাকবে ক্রিকেট জগতের।