প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের বড় রানের ইনিংস খেলতে হবে এবং বাকিদের তাঁদের কেন্দ্র করে রান করতে হবে - পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের এই স্ট্র্যাটেজিই হওয়া উচিত বলেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। আর ঠিক সেটাই করে দেখাল ভারত। কে রাহুল (৫৭), রোহিত শর্মা (১৪০), বিরাট কোহলি (৭৭) -র বড় ইনিংসে ভর করে ভারত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান তুলল।

মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া বোলারদের সাহায্য করবে, এমন ভাবনা থেকেই টসে জিতে ম্যাঞ্চেস্টারে ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাক অধিনায়ক সরফরা আহমেদ। একদিক থেকে মহম্মদ আমির ভাল শুরু করলেও একেবারে শুরু থেকেই বল জায়গায় রাখতে ব্যর্থ হন অপর বোলার হাসান আলি।

ফলে কখনই ভারতীয় গোড়াপত্তনকারী দুই ব্য়াটসম্যান রোহিত শর্মা ও কেএল রাহুল-এর উপর চাপ পড়েনি। শিখরের অবর্তমানে রোহিত এদিন শুরু থেকেই দুর্দান্ত আগ্রাসী ব্য়াটিং করেন। রোহিতের ব্যাট থেকে এদিন একটি দুর্দান্ত আপার কাট বের হয়। কভার এলাকা ওভার বাউন্ডারিটি ২০০৩ সালে শোয়েব আখতারের বলে সচিন তেন্ডুলকারের মারা আপার কাটে ছয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

রাহুল ও রোহিত প্রথম উইকেটে ১৩৬ রান তুলেছিলেন ২৪ ওভারে। এরপর ভারতীয় ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান ভারতের অধিনায়ক-সহঅধিনায়কের নির্ভরযোগ্য জুটি। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতেও তাঁরা ৯৮ রান জুড়েছেন। এর মধ্য়েই কেরিয়ারের ২৪তম শতরান করে যান রোহিত। সাধারণত শতরান করলেই তিনি বড় শতরান বা 'ড্যাডি ইনিংস' খেলে যান তিনি। ৩টি ছয় ও ১৪টি চার মেরে ১১৩ বলে ১৪০ রান করে যান তিনি।

হাসান আলির একটি বলে স্কুপ করতে গিয়ে ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেলেন রোহিত। সহঅধিনায়ক ফেরার পর নেমেছিলেন হার্দিক। পঞ্চম গিয়ারে ব্যাট করার দায়িত্বই রয়েছে তাঁর উপর। আর সেটাই করছিলেন হার্দিক। ১টি ছয় ও ২টি চার মেরে ১৯ বলে ২৬ রান করার পর একটি হেলিকপ্টার শট মারতে গিয়ে তিনি বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন।

এরপর রানের গতি বাড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। অর্ধশতরানও করেন তিনি। কিন্তু মাঝে বৃষ্টিতে খেলা সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়। খেলা শুরুর পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। মহম্মদ আমির একটি বাউন্সার দিয়েছিলেন। বল তাঁর ব্যাট ঘেসে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। বিরাট বল তাঁর ব্যাটে লেগেছে ভেবে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেও, পরে রিপ্লেতে দেখা যায় বল তাঁর ব্যাটেই লাগেনি। তিনি ওই জায়গায় ফিরে যাওয়ায় ভারতের রান যতটা উঠতে পারত, ততটা উঠল না।

পাকিস্তানে পক্ষে একমাত্র ভাল বল করলেন মহম্মদ আমির। ৪৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন তিনি। আর উইকেট না পেলেও ওভার প্রতি ৫ এর কম রান দিয়েছেন ইমাদ ওয়াসিমও। হাসান আলি দেন ৯ ওভারে ৮৪ রান, রিয়াজ ১০ ওভারে ৭১। দুজনেই ১টি করে উইকেট পেয়েছেন।