একের পর এক বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়েছে। যে বিশ্বকাপকে প্রচুর রানের দারুণ আকর্ষণীয় বিশ্বকাপ হবে বলে মনে করা হয়েছিল, তাই এখন বৃষ্টিপাতের বিশ্বকাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নয় নয় করে তিনটি ম্য়াচ এখনও অবধি আয়োজন করা যায়নি। আগামী কয়েকদিনে আরও বেশ কয়েকটি ম্যাচ বাতিল হতে পারে। অনেকেরই প্রশ্ন কেন রাউন্ড রবিন লিগেও রিজার্ভ ডে রাখা হল না? আইসিসি-র চিফ এক্সিকিউটিভ ডেভ রিচার্ডসনের অবশ্য দাবি প্রতি ম্যাচের জন রিজার্ভ ডে রাখা বাস্তবে সম্ভব নয়।

তাঁর ব্যাখ্যা, প্রতি ম্যাচের জন্য যদি বাড়তি একটি করে দিন রাখতে হয়, সেই ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ অত্যন্ত বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে বাড়বে বিভিন্ন জটিলতা।

তিনি জানিয়েছেন সাধারণত ইংল্যান্ডে জুন মাসে বৃষ্টি কম হয়। কিন্তু এইবছর অস্বাভাবিক হবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। রিচার্ডসন আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য তুলে জানান, জুন মাসে ইংল্যান্ডের বৃষ্টিপাতের যে পরিমাণ থাকে, গত দুইদিনে কতার থেকে অনেক বেসি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। আর অস্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্তিতিরই খেসারত দিতে হচ্ছে বিশ্বকাপকে।

প্রতি ম্যাচে রিজার্ভ ডে রাখলে, পিচ প্রস্তুতি, ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময়, থাকার জায়গা, বিশ্বকাপ কেন্দ্রগুলি ফাঁকা পাওয়া, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাওয়া, সম্প্রচারের সরঞ্জাম আনা নেওয়া করা থেকে দর্শকদের ভ্রমণের সূচি নিয়ে পর্যন্ত সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া রিজার্ভ ডে-তেও যে বৃষ্টি হবে না তারও কোনও নিশ্চয়তা থাকবে না। এইসব কারণেই রাউন্ড রবিন লিগে রিজার্ভ ডে রাখা হয়নি।

বৃষ্টির কারণে শ্রীলঙ্কা দলের দুটি ম্যাচ বাতিল হয়েছে। রাউন্ড রবিন লিগের শেষের দিকে কিন্তু শেষ চারে জায়গা করা নেওয়ার জন্য ১০ দলের মধ্যে লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়বে। সেই সময়েও যদি বৃষ্টিতে খেলা ভেস্তে যায়, তাহলে কিন্তু প্রকৃতির কাছে হেরেই অনেক দলের আশা ফুরিয়ে যেতে পারে। বৃষ্টিতে ম্যাচ পণ্ড হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের পাশাপাশি হতাশা ব্যক্ত করেছেন কিউই জোরে বোলার লকি ফার্গুসন, বাংলাদেশী কোচ স্টিভ রোডস, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস প্রমুখ।