সাকিব আল হাসানের দুরন্ত শতরান। কার্ডিফের বুকে এক বাঙালির অসম লড়াই। ইতিহাসে বাধিয়ে রাখার মতো এক বাঙালির ক্রিকেট বিশ্বকাপে এদিনের লড়াই শেষমেশ দলের জয় এনে দিতে পারল না। সাকিব যেমন থেমে গেলেন ১২১ রানের স্কোরে। আর ঠিক সেখান থেকেই বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার যেন তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল। ইংল্যান্ডের কাছে ১০৬ রানে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হতে হল বাংলাদেশকে। 

এদিন টসে জেতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজা। কিন্তু, তিনি ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত না নিয়ে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৫০ ওভারের ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৩৮৬ রান তুলতে সমর্থ হয়। ওপেনার জেসন রয় ১২১ বলে ১৫৩ রান করে আউট হন। ১৪টা চার ও ৫টা ছয় মারেন রয়। বেয়ারস্টো ৫০ বলে ৫১ রান করে আউট হন। জো রুটও ৪৪ বলে ৬৪ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক মর্গ্যান ৩৩ বলে ৩৫ রান করেন। বাংলাদেশ দলের কোনও বোলারই এদিন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের প্রবল প্রতাপের সামনে সেভাবে মাথা তুলতে পারেননি। 

৩৮৭ রানের বিশাল রান-এর টার্গেট তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার দ্রুত আউট হন। এরপরই তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে আগ্রাসী মেজাজে বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন সাকিব। এই বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তুখোড় ফর্মে রয়েছেন সাকিব। সেই ফর্ম-কে বজায় রেখেই এদিন ইংল্যান্ড বোলারদের বিরুদ্ধে সংহার মূর্তি নেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সহায়তা দিতে থাকেন মুশফিকুর রহমান। কিন্তু ২৯ ওভারের মাথায় মুশফিকুর আউট হতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এরপর মহম্মদ মিঠুন শূন্য রানে আউট হয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপে চাপ তৈরি করে দেন। মেহমুদুল্লা-ও সাকিব ইনিংস টানার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাকিব ৩৯ ওভারের মাথায় আউট হতেই ইংল্যান্ড তাদের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে। কারণ, সাকিবের আউটের পর মেহমুদুল্লা ও মোসাদ্দেক হোসেন জুটি একটা চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। কারণ, এক ও দুই রান করে স্কোরবোর্ড সচল রাখতে গিয়ে আস্কিং রেট বেড়ে যেতে থাাকে। এই সময় বেশ কিছু চার ও ছয়ের দরকার ছিল, কিন্তু, মেহমুদুল্লা ও মোসাদ্দেক-এর মধ্যে বিগ-শট খেলার মতো ক্ষমতা ছিল না। ফলে ইংল্যান্ডের জয় তখন ছিল সময়ের অপেক্ষা। শুধু, অপেক্ষা ছিল জয়ের ব্যবধানটা কতটা থাকে। শেষমেশ বাংলাদেশ ৪৮.৫ ওভারে ২৮০ রানে অলআউট হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের করা রান থেকে তখনও বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল ১০৬ রানে। সাকিব আল হাসান ১১৯ বলে ১২১ রানের যে ইনিংসটি খেলেছিলেন, তাতে তিনি ১২টা চার ও ১টি ওভার-বাউন্ডারি মারেন। 

 টসে জিতলে কী করা হবে তা নিয়ে আগেভাগেই টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বাংলাদেশেরও ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছিল। মাশরাফি মাঠে টসে জিতেও ফিল্ডিং-এর যে সিদ্ধান্তের কথা আম্পায়দের জানিয়েছেন তা নিশ্চিতভাবেই টিম ম্যানেজমেন্টের ঠিক করে দেওয়া ছিল। গত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো স্কোর খাড়া করতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই চিন্তা থেকেই হয়তো এদিন প্রথমে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস-এ যে সব ময়দানে এবার বিশ্বকাপের ম্যাচ হচ্ছে তাতে পিচ হাইস্কোরিং হিসাবেই বানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইংল্যান্ড দলে একাধিক স্ট্রোক প্লেয়ার। ওপেন থেকে একদম লোয়ার মিডল অর্ডার পর্যন্ত এরা রয়েছেন। তারপরে ইংল্যান্ড দলের ঘরোয়া মাঠ এবং আবহাওয়া সঙ্গে পরিচিতি। এতকিছু ফ্যাক্টর থাকার সত্ত্বেও কেন বাংলাদেশ প্রথমে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নিল তা ক্রিকেট এক্সপার্টদের বোধগম্য হয়নি। 

এই ম্যাচ হারের ফলে বাংলাদেশ টানা ২টি ম্যাচে হার মানল। তাতে অবশ্য যে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়া আটকে যাবে তেমনটা নয়। রাউন্ড রবিন লিগে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি দল প্রত্যেকের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে। তাই বাংলাদেশের সামনে এখনও সুযোগ থাকছে। তবে, এদিন একটা মারকাটারি লড়াই দিয়ে বাংলাদেশ দলটি তাদের শক্তির বার্তা নিশ্চিতভাবেই বাকি দলগুলির কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।