লড়ছে বাংলাদেশ। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে হাই স্কোরিং ম্যাচে ১১ বাঙালির লড়াই পদ্মাপারে উৎসবের আবহাওয়া কি তৈরি করবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এদিন বিশ্বকাপে তাদের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্রিটিশদের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজা। সেই সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের হারের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না তো তা নিয়ে এখন চর্চা চলছে। 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ ২টি উইকেট হারিয়েছে। প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ফের একবার বাংলাদেশ ইনিংসকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন দুরন্ত ব্যাটিং ফর্মে থাকা সাকিব আল হাসান। ২০ ওভারের মধ্যে ১০০ রানের হার্ডলও পার করে ফেলেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের রানও এই সময় শতাধিক ছিল। কিন্তু, খেলার মধ্যবর্তী ওভারগুলিতে যেভাবে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বাংলার বোলারদের উপরে হানা দেগেছিল তেমনটা এই ইনিংসে এখনও প্রতিভাত হয়নি। 

বিশ্বকাপের মতো ম্যাচে ৩৮৬ রানের টার্গেট একটা অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ম্যাচ হারলে বাংলাদেশ টানা ২টি ম্যাচ হারবে। তাতে অবশ্য যে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়া আটকে যাবে তেমনটা নয়। রাউন্ড রবিন লিগে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি দল প্রত্যেকের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে। তাই বাংলাদেশের সামনে এখনও সুযোগ থাকছে। তবে, এদিন একটা মারকাটারি লড়াই দিয়ে বাংলাদেশ দলটি তাদের শক্তির বার্তা বাকি দলগুলির কাছে পৌঁছে দিতে পারে। তবে, এটাও মানতে হবে ক্রিকেট বড়ই অনিশ্চিত খেলা। কখন কোথায় পাশা উল্টে যায়, তা গ্যারান্টি দিয়ে কেউ বলতে পারে না। তাই, বাংলাদেশ যদি ম্যাচ জিতে যায় সেটা যেমন আশ্চর্যের মতো হবে, তেমনি আরও একবার জয় হবে ক্রিকেটের অনিশ্চিয়তা নামক শব্দটিরও।

এদিন টসে জেতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজা। কিন্তু, তিনি ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত না নিয়ে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। টসে জিতলে কী করা হবে তা নিয়ে আগেভাগেই টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও মাশরাফি মাঠে টসে জিতেও ফিল্ডিং-এর যে সিদ্ধান্তের কথা আম্পায়দের জানিয়েছেন তা নিশ্চিতভাবেই টিম ম্যানেজমেন্টের ঠিক করে দেওয়া ছিল। গত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো স্কোর খাড়া করতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই চিন্তা থেকেই হয়তো এদিন প্রথমে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস-এ যে সব ময়দানে এবার বিশ্বকাপের ম্যাচ হচ্ছে তাতে পিচ হাইস্কোরিং হিসাবেই বানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইংল্যান্ড দলে একাধিক স্ট্রোক প্লেয়ার। ওপেন থেকে একদম লোয়ার মিডল অর্ডার পর্যন্ত এরা রয়েছেন। তারপরে ইংল্যান্ড দলের ঘরোয়া মাঠ এবং আবহাওয়া সঙ্গে পরিচিতি। এতকিছু ফ্যাক্টর থাকার সত্ত্বেও কেন বাংলাদেশ প্রথমে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নিল তা ক্রিকেট এক্সপার্টদের বোধগম্য হয়নি। 

প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৫০ ওভারের ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৩৮৬ রান তুলতে সমর্থ হয়। ওপেনার জেসন রয় ১২১ বলে ১৫৩ রান করে আউট হন। ১৪টা চার ও ৫টা ছয় মারেন রয়। বেয়ারস্টো ৫০ বলে ৫১ রান করে আউট হন। জো রুটও ৪৪ বলে ৬৪ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক মর্গ্যান ৩৩ বলে ৩৫ রান করেন। বাংলাদেশ দলের কোনও বোলারই এদিন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের প্রবল প্রতাপের সামনে সেভাবে মাথা তুলতে পারেননি।