ভারতের বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় বিজয় শঙ্করকে 'থ্রিডি প্লেয়ার' বা 'ত্রিমাত্রিক ক্রিকেটার' বলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক এমএসকে প্রসাদ। তারপর থেকে এই থ্রিডি প্লেয়ার নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুতেই সত্যিকারের থ্রিডি পারফরম্যান্স করে দেখালেন ইংরেজ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।

টসে জিতে ইংল্যান্ডকে প্রথমে ব্য়াট করতে পাঠিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। এদিন জস বাটলার ও মইন আলির আগে পাঁচ নম্বরে ব্য়াট করতে পাঠানো হয় বেন স্টোকস-কে। তিনি সুযোগটাকে দারুণভাবে কাজে লাগালেন। আরও তিনজন ক্রিকেটার অর্ধশতরান করলেও স্টোকস-এর ৭৯ বলে ৮৯ রানই ইংরেজ ইনিংসের মেরুদণ্ড ছিল বলা যায়। একটিও ছয় না মেরে, কিছুটা স্বভাববিরোধীভাবেই কিন্তু ৯টি চারে ইনিংসটি সাজান স্টোকস।

এরপর ফিল্ডিং করতে নেমে বিস্বকাপের প্রথম দিনই একটি ছবির মতো মুহূর্ত উপহার দিলেন তিনি। বিশ্বকাপের চিরস্মরণীয় ফ্রেমগুলির মধ্যে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে জন্টি রোডস-এর উড়ে গিয়ে নেওয়া ক্যাচ আসেই। এদিন স্টোকস প্রায় সেই রকমই একি ক্যাচ নিলেন। ফেহলুকাওইও মিড অনে একটি বল তুলে মেরেছিলেন। বলটি সকলেই ধরে নিয়েছিলেন ছয় হচ্ছে। সেই বলই দৌড়ে এসে হাতের তালুর উল্টো দিক দিয়ে বলটি তালুবন্দী করেন তিনি।

এরপর ৩৪তম ওভারে বল করতে ডাকা হয় তাঁকে। তিনি বল করলেন ২ ওভার ৫ বল। ১২ রান দিয়ে ২টি উইকেটও নিলেন তিনি।

আর সেই কারণেই ম্যাচের সেরা তাঁকে ছাড়া আর কাউকে বাছা সম্ভব হয়নি। তবে দৌড়ে ছিলেন জোফ্রা আর্চারও। বিশ্বকাপে এদিনই অভিষেক হল তাঁর। আর তা তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন, মার্করাম, ডু প্লেসিস, ও ভ্য়ান ডার ডুসেনের উইকেট তুলে নিয়ে। কিন্তু তারপরেও এদিন বেন স্টোকস-এর ব্য়াটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং - ত্রিমাত্রিক পারফরম্যান্সের সামনে তিনিও পিছনে পড়েছেন। একজন অলরাউন্ডার এর থেকে বেশি কী চাইতে পারেন?