ভারতের বিশ্বকাপের ১৫ জনের প্রাথমিক দল ঘোষণার পর মূলত দুটি জায়গা নিয়ে বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছিল। প্রথমত আম্বাতি রায়ডুকে বাদ দিয়ে বিজয় শঙ্করকে দলে নেওয়াটা হঠকারি সিদ্ধান্ত কি না, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু, বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল তরুণ সম্ভাবনা ঋষভ পন্থকে বাদ দিয়ে ৩৩ বর দীনেশ কার্তিককে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। তারপর থেকে আইপিএল যত এগিয়েছে, এই বিতর্কের মাত্রা আরও বেড়েছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রিকি পন্টিং-দের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তীরাও পন্থের হয়ে সওয়াল করেছেন।

পন্থের বাদ পড়ার কারণ নিয়ে নির্বাচক প্রধান এমএসকে প্রসাদ কখনই জুতসই কোনও উত্তর দিতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল ঘটনাটি পন্থের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন অভিজ্ঞতা এবং চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারার ক্ষমতার জন্যই পন্থের আগে কার্তিককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এক সর্বভারতীয় পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাতকারে বিরাট জানান, চাপের মুখে কার্তিক অতীতে বারবারই তাঁর ঠান্ডা মাথার পরিচয় দিয়েছেন, যা দলের সবাইকে মুগ্ধ করেছিল।  সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতার ভান্ডারও কম নয়। বিরাট বলেছেন,'ভগবান না করুন, যদি এমএস-এর কিছু হয়, তখন ওর (কার্তিক) অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে খুবই মূল্যবান হবে। তাছাড়া, ফিনিশারের ভূমিকাতেও খুব ভালো খেলেছে'। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় মাপের টুর্নামেন্ট খেলার ক্ষেত্রে কার্তিকের বড় টুর্নট খেলার অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল কার্তিকের। তারপর থেকে ৯১ টি একদিনের ম্য়াচ খেলার সুযোগ হয়েছে তাঁর। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের দলেও ছিলেন তিনি। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলবেন তিনি।

অপরক্ষে গত বছর অক্টোবরেই অভিষেক হয় ঋষভ পন্থের। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৫টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্য়াচ খেলেছেন তিনি। কাজেই বিশ্বাপের মতো বড় মাপের টুর্নামেন্টে তাঁর উপর নির্ভর করাটা ঝুঁকির কাজ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কার্তিক ব্য়াটিং অর্ডারে প্রয়োজন মতো যেকোনও জায়ই ব্য়াট করার মতো নমনীয়। ক্রিজে টিকে থেকে মন্য়াচ শেষ করে আসার দক্ষতাও রয়েছে।

দল বাছাইয়ের পর প্রধান কোচ  শাস্ত্রী মেনেই নিয়েছিলেন, বেশ কিছু বাছাই নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে। অনেক রকম মতামত আসতে পারে। কারণ বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে বাদ দিতে হয়েছে। শাস্ত্রী বলেছিলেন তাঁদের জন্য টিম ম্য়ানেজমেন্ট খুবই দুঃখিত। আসলে ভারতের হাতে এখন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের ছড়াছড়ি। তার মধ্য থেকে ১৫ জনকে বেছে নেওয়াটা খুবই কঠিন ছিল। কিছু যোগ্য ক্রিকেটারকে বাদ দিতেই হয়েছে।

তবে তাঁদের হতাশ হতে নিষেধ করেছেন কোচ। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে হঠাত চোট-আঘাত বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিতে , সেক্ষেত্রে এই বাদ পড়াদের সামনে সুযোগ আসতে পারে। তার জন্য তৈরি থাকতে হবে। বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে অদলবদল করার শেষ তারিখ ২৩ মে। তারমধ্যে পার্থমিক বাছাই ১৫ জনের কেউ বদলে যান কিনা, সেদিকেই চোখ রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের।