এবারের বিশ্বকাপে অলরাউন্ডাররা বড় ভূমিকা নেবে। আর ভারতের হাতে রয়েছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া। হার্দিক এই মুহূর্তে যেই রকম ফর্মে আছেন তাঁর উপস্থিতির জন্যই ভারতকে আসন্ন বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা যায়। ২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের প্রধান নায়ক তথা সেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় যুবরাজ সিং এমনটাই বলছেন।

২০১১ সালে ব্যাটে বলে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন যুবরাজ সিং। ৩৬২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ১৫টি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। যুবির মতে আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপে একইরকম ভূমিকা নিতে পারেন তাঁর মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দলের সতীর্থ। এইবারের বিশ্বকাপে কেন অলরাউন্ডারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

নয়া নিয়মে পোয়াবারো অলরাউন্ডারদের

আসন্ন বিশ্বকাপের ম্য়াচের ফর্ম্যাটে কিছু অদলবদল করা হয়েছে, যা যুবির মতে প্রতি দলেই অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ১০ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে মাত্র ৪ জন ফিল্ডার রাখা যাবে। ফলে কোনও অধিনায়কের পক্ষেই ব্যাটসম্যানে দল বোঝাই করে, পার্টটাইম বোলারদের দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওযা সম্ভব হবে না। কারণ ফিল্ডিং-এর বিধি নিষেধ রেখে ভালো বল করাটা পার্টটাইমারদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কাজেই পাঁচ বিশেষজ্ঞ বোলারে খেলতেই হবে। তাদের মধ্যে কেউ খারাপ বল করলে ৪-৫ ওভার পার্টটাইমার দিয়ে চলতে পারে।

হার্দিককে পূর্বসুরীর বার্তা

যুবি জানিয়েছেন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ড্রেসিংরুমে হার্দিকের সঙ্গে বিশ্বকাপ বিষয়ে তাঁর কথা হয়েছে। তার মতে হার্দিক এখন ব্য়াট হাতে যে ফর্মে আছেন, তাতে তাঁকে থামানো বিপক্ষের মুশকিল হবে। বল হাতে অতটা ধারাবাহিক না হলেও, মাঝে মাঝেই তিনি ঝলক দেখিয়েছেন। কাজেই ব্য়াট-বল দুই ক্ষেত্রেই হার্দিক বড় ভূমিকা নিতে পারেন।

বেদম মারের ধারা

কেরিয়ারের উজ্জ্বল সময়ে বল গ্যালারি পার করার বিষয়ে বিশেষ পারদর্শিতা ছিল যুবরাজের। টি২০ বিশ্বকাপে ইংরেজ বোলার স্ট্রুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে ছয়টি ছয় মারা তো লোকগাথায় পরিণত হয়েছে। যুবি মনে করছেন বিশ্বকাপেও সেই বেদম মারের ধারা বজায় থাকবে। তিনি নিশ্চিত ইংল্যান্ড ও ওয়েলস-এর উইকেটগুলি ব্য়াটসম্য়ান সহায়কই করা হবে।

স্পিনই শক্তি, তাকেই কাজে লাগাও

বর্তমানে ভারতীয় দলে বেশ কয়েকজন অত্যন্ত উচ্চ মানের জোরে বোলার রয়েছে। সেই সঙ্গে খেলা হবে ইংরেজ পরিবেশে, ষেখানে সাধারণত জোরে বোলাররাই পিচ ও পরিবেশের সহায়তা পান। তাই ভারতীয় দলে একসঙ্গে কুলদীপ ও যুজবেন্দ্র চাহালের জুটি-কে খেলানো উটিত কিনা তাই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যুবির অবশ্য মনে কোনও দ্বিধা নেই। তিনি বলছেন স্পিনই ভারতের শক্তি। আর উইকেট বা পরিবেশ , বিশ্ব নিজেদের শক্তি অনুযায়ীই দল সাজানো উচিত। তাই জোড়া স্পিনার খেলানোর বিষয়েই তিনি জোর দিয়েছেন।

এবারের টুর্নামেন্টের ধরণের ভালো-মন্দ

এই বার বিশ্বকাপের প্রথম বে, ১০ দলের প্রত্যেকটি অপর ৯টি দলের বিরুদ্ধে খেলবে। তাই অনেকেই মনে করছেন এইবারের টুর্নামেন্ট প্রত্যেক দলের কাছেই বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুবি কিন্তু বলছেন অন্যকথা। তাঁর মতে একটু বেশি খেলতে হবে ঠিকই, কিন্তু এর অনেক সুবিধা রয়েছে। ২০০৭ সালে ভারত গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচের ২টি হেরে ছিটকে গিয়েছিল। যুবি জানিয়েছেন, সেইবার ২০১৯ বিশ্বকাপের মতো ফর্ম্যাটে খেলা হলে ফিরে আসার সুযোগ থাকত হাতে।