প্রতিকুল পরিবেশে অভিষেক টেস্টে লর্ডসে সেঞ্চুরি। তারপর গড়াপেটায় জর্জরিত ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে দেশকে একের পর এক সাফল্য এনে দেওয়া। দল থেকে বাদ পড়েও ফের বছর খানেকের মধ্যে ফিরে আসা। সবশেষে  যে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন একদিন, সেই বিসিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়া। বিভিন্ন চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্রিকেট জীবন গিয়েছে। কিন্তু অবশেষে সাফল্য এসেছে বেহালার ডাকাবুকো সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। অন্যান্যদের মতই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভক্ত প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বাংলা দলের কোচ অরুণ লাল। এমন একটি ঘটনার কথা বললেন, যার পর গোটা জীবনটাই বদলে গিয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের।

আরও পড়ুনঃঅনেক দিন পর মন খুলে হাসছেন ধোনি, ভিডিও ভাইরাল নেট দুনিয়ায়, হাসির কারণটা কী

১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। কিনিতু তারপর থেকে টানা ৪ বছর দলের বাইরেই থাকতে হয়েছিল। সেই ঘটনার উল্লেখ করে এক সাক্ষাৎকারে অরুণ লাল বলেন,'সৌরভ সেই সময় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল, হতাশা গ্রাস করেছিল। কিন্তু ফিরে তাকালে বোঝা যাবে যে ও যদি বাদ না পড়ত, তবে এই মাপের ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারত না। আর এই কথাটা আমি তখনও বলেছিলাম। কারণ, কয়েক বছর বাইরে থাকার ফলে ও পরিণত হয়ে উঠেছিল। নিজেকে শক্তিশালী করে তুলে প্রত্যাবর্তনের সময় পেয়েছিল ও। আর তাই অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে পাওয়া গিয়েছে। আর এখন ও-ই বোর্ডের মাথায় রয়েছে।'

আরও পড়ুনঃআরব দেশেই হবে আইপিএল ২০২০,তবে রয়েছে একাধিক শর্ত

আরও পড়ুনঃকোয়েসের কাছ থেকে স্পোর্টিং রাইটস ফেরত পেল ইস্টবেঙ্গল, আইএসএল খেলার রাস্তা হল পরিস্কার

বরাবরই সৌরভ ভক্ত কোচ অরুণ লাল। খারাপ সময়তেও সৌরভের হয়ে ব্যাটন ধরতে দেখা গিয়েছে তাকে। সৌরভের সম্পর্কে স্মৃতিটারণা করেত গিয়ে অরুণ লাল বলেছেন,'সচিন তেন্ডুলকরের মতো আমি বরাবরই সৌরভের ফ্যান। সচিনের মতো সৌরভও স্পেশাল ছিল। কলকাতার সিসিএফসি মাঠে এক বার সৌরভকে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে দেখেছিলাম। সেই ম্যাচে ছয়-সাতটা ছক্কা মেরেছিল। এত জোর মারছিল যে ক্লাব ছাড়িয়ে বল ট্রামলাইনে পৌঁছে যাচ্ছিল। আর শটগুলো নিচ্ছিল অনায়াসেই। তখন ওর বয়স ১৬-১৭ হবে। সচিনের মতো সৌরভও তাই ক্রিকেট খেলার জন্যই জন্মেছে। ওর অবিশ্বাস্য রকমের প্রতিভা ছিল।'আগামী দিনেও প্রশাসনিক পদেও যে সৌরভ একইভাবে সফলতা পাবে তা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী অরুণ লাল। সৌরভের দৃঢ় মানসীকতাই ওকে সাফল্য এনে দেবে বলে মনে করেন বাংলার কোচ।