করোনায় আক্রান্ত বাংলা রঞ্জি দলের বর্তমান নির্বাচক সাগরময় সেন শর্মা। আপাতত স্থিতীশীল রয়েছেন তিনি। দলের নির্বাচকের করোনা আক্রান্তের খবরে উদ্বেগ বেড়েছে সিএবিরও। তাও লকডাউনের পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটারদের অনুসীলনে পেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের গাইডলাইন মেনেই ক্রিকেটারদের জন্য নির্দিষ্ট একটি স্বাস্থ্যবিধি তৈরি করেছে সিএবির মেডিক্যাল টিম। এক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। স্থির হয়েছে যে,অনুশীলনে ফেরার আগে ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ক্লাস করানো হবে। যে স্বাস্থ্যবিধি তৈরি করা হয়েছে ক্রিকেটারদের জন্য তার মধ্যে উল্লখযোগ্য বিষয়গুলি হল-

আরও পড়ুনঃপরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ালেন মহম্মদ শামি, দিলেন খাদ্য,মাস্ক ও জল

আরও পড়ুনঃঅক্টোবরে ভারতে ফিরতে পারে ফুটবল,ফেডারেশনকে জানাল ফিফা

ইডেন চত্বর জীবাণুমুক্ত করতে হবে
অনুশীলনের আগে গোটা চত্বরকে জীবাণুমুক্ত করতে স্যানিটাইজেশন করতে হবে। মাঠ, ড্রেসিংরুম,জিম-সহ সমস্ত ইডেন জীবাণুমুক্ত করা হবে। ক্লাব হাউজ চত্বর এবং নবনির্মিত ইনডোর জুড়ে স্যানিটাইজেশন করতে হবে। শৌচালয়গুলিকে জীবাণু মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক।

ইডেনেই আইসোলেশন রুম
ইডেন চত্বরেই তৈরি হবে বিশেষ আইসোলেশন রুম। অনুশীলন বা ম্যাচ চলাকালীন কোনও ক্রিকেটারের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে, এই আইসোলেশন রুমে চিকিৎসা হবে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের। কারও ইবস্থা যদি সঙ্কটজনক হয় তখন তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরীত করা হবে।

ক্রিকেটের সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে হবে
ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত সামগ্রী সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বারণ। অনুশীলনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে স্যানিটাইজার, যা কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে না। প্রত্যেককে সঙ্গে রাখতে হবে ব্যক্তিগত হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অনুশীলন শুরু ও শেষের সময় সব সরঞ্জাম স্যানিটাইজড করতে হবে। 

অনুশীলনের পোষাক পড়ে আসতে হবে
ইডেনের সাজঘর যত কম সম্ভব ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হবে ক্রিকেটারদের। সকলকে বাড়ি থেকেই খেলার পোশাক পরে মাঠে আসার নির্দেশ দেওয়া হবে। ড্রেসিংরুমে স্নান করা, সুইমিং পুল ব্যবহার, এবং সরকারি নির্দেশ না আসা পর্যন্ত জিম ব্যবহারেও থাকছে নিষেধাজ্ঞা।

ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
 আপাতত কমসংখ্যক ক্রিকেটারদের নিয়ে অনুশীলন শুরু করা যেতে পারে। তবে অনুশীলনে ক্রিকেটারদের মধ্যে সোশাল ডিস্টেন্সিং রাখা বাধ্যতামূলক। মাঠে ঢোকার সময় প্রত্যেকের থার্মাল স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক।  কোনও রকম উপসর্গ দেখা গেলে ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা করা হবে।

সকল বোলারদের জন্য নির্দিষ্ট বল
অনুশীলন চলাকালীন সমস্ত বোলারদের আলাদা আলাদ বল দেওয়া হবে। অন্য কারও বল ধরতে বা ব্যবহার করতে পারবে না অপর বোলার। আইসিসির নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএবি। একই বলে দ্বিতীয় দিন অনুশীলন করা যাবে না।

বলে থুতু বা ঘাম লাগানো নিষেধ
করোনা পরবর্তী ক্রিকেটে বলে স্যালাইভা অর্থাৎ থুতু বা ঘাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনতে চলেছে আইসিসি, একপ্রকার নিশ্চিত। ইতিমধ্যেই কুম্বলে কমিটি আইসিসির কাছে রিপোর্টও জমা দিয়েছে। সিএবি-ও অনুশীলন চলা কালীন বোলারদের বলে থুতু বা ঘামের ব্যবহার করতে মানা করেছে। বল পালিশের ক্ষেত্রে অন্য কোনও ব্যবস্থা করা হবে কিনা, তা এখনও জানা যায়নি।

ক্রিকেটারদের ক্লাস
করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য ক্রিকেটারদের আলাদা করে ক্লাস নেওয়া হবে। করোনাভাইরাস রুখতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেই সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরা হবে সেই ক্লাসে। সিএবির স্বাস্যবিধিগুলিও ক্লাসে ভাল করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে ক্রিকেটারদের।

আরও পড়ুনঃশারজায় সচিনের মরু ঝড় দেখতে স্কুল পালিয়েছিলেন এক বর্তমান ক্রিকেট তারকা