'লোকে আমাকে বলছে, তোমার ছেলে খুব ভাল খেলছে। টিভিতে পেপারে সব জায়গায় তোমার নাম দেখে খুব ভাল লাগছে।' হাসপাতালে শুয়েই ছেলের সাফল্যে এইভাবে নিজের আনন্দ ব্যক্ত করেছিলেন ভারতীয় পেসার মহম্মদ সিরাজের বাবা মহম্মদ ঘউস। এবারের আইপিএলে ভারতীয় পেস বোলারদের মধ্যে অন্যতম সেরা ছিলেন মহম্মদ সিরাজ। তার পেস ও সুইংয়ের কামালে একাধিক ম্যাচ জিতে ছিল বিরাট কোহলির আরসিবি। আইপিএলে দুরন্ত পারফরমেন্সের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের সিরিজেও ভারতীয় দলে জায়গা করে নেন সিরাজ। কিন্তু অস্ট্রেলিার মত গুরুত্বপূর্ণ সফরে ছেলে খেলা দেখা হল না মহম্মদ ঘউসের। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর প্রয়াত হলেন মহম্মদ সিরাজের বাবা। 

বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন মহম্মদ ঘউস। ফুসফুসে সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।  মহম্মদ সিরাজ আইপিএলে যেদিন কেকেআরের  বিরুদ্ধে দুর্দান্ত বোলিং করেন। চারিদিকে তার বোলিংয়ের প্রশংসা চলছিল, তার ঠিক একদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল সিরাজের বাবাকে। তারপর থেকে হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন তিনি। বাসপাতালের বিছানায় শুয়েই শুনেছিলেন ছেলের সাফল্যের কাহিনি। অস্ট্রেলিয়া সফরে সিরাজ ডাক পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে ছেলে খেলা দেখার জন্যও মুখিয়ে ছিলেন মহম্মদ ঘউস। কিন্তু তাঁর ঐর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা হয়নি। মাত্র ৫৩ বছর বয়সেই ফুসফুসের সংক্রমণজনিত সমস্যার কারণে প্রয়াত হলেন মহম্মদ সিরাজের বাবা।

শুক্রবার যখন ভারতীয় দলের অনুশীলন চলছিল তখনই আসে এই সংবাদ। অনুশীলনরত মহম্মদ সিরাজ হয়তো ভাবতেও পারেননি তার জন্য এত বড় দুঃসংবাদ অপো করে রয়েছে। কোচ রবি শাস্ত্রী ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি সিরাজকে এই খবর জানান। কিন্তু সমস্যা হল সিডনির জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকার কারণে সিরাজ সেখান থেকে বেরোতে পারবেন না। ফলে বাবার শেষকৃত্যে থাকা হচ্ছে মহম্মদ সিরাজের। বাবার প্রয়াণের খবরে ভেঙে পড়েছেন সিরিজা। জানিয়েছেন,'অটো চালিয়ে দিন রাত কষ্ট করে আমার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরন করেছেন। বাবার ইচ্ছে ছিল, আমি দেশকে গর্বিত করব। আর সেটা আমি অবশ্যই করে দেখাব। আমার কাছে এই সংবাদ ভীষণই বেদনাদায়ক। জীবনের সব কঠিন সময়ে পাশে থাকার মানুষটিকে হারালাম। জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। ভাবতেই পারছি না, এরকম কিছু হয়ে যেতে পারে।' সিরাজের এই কঠিন সময়ে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট সর্বতভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।