এর আগে আমরা অনেক খেলোয়াড়কে নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙতে দেখেছি। কিন্তু সেরার পুরস্কারের ট্রফি হয়তো তারা ভেঙে ফেলেন না। বরং হয়তো তারা সেটি যত্ন করে রেখে দেন। এখানেই ব্যাতিক্রম দেখা গেল অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে ওপেন করতে নামা ব্যাটসম্যান যশস্বী জয়সওয়ালের ক্ষেত্রে। তিনি নতুন কোনও রেকর্ড ভাঙেননি। কিন্তু জিতেছিলেন অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি। সেই ট্রফিটিকেই সম্প্রতি ভাঙা দু-টুকরো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তাতেও নির্বিকার যশস্বী নিজে। তার কোচ জানিয়েছেন যশস্বী ব্যাটিং ছাড়া বাকি সব ব্যাপারেই নির্বিকার থাকে। তাই ট্রফি ভেঙে যাওয়াটা ওর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নয়।

এই ঘটনা হাসির খোরাক জুগিয়েছে ক্রীড়া প্রেমীদের। অনেকে আবার তাকে তুলনা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ এবং বর্তমান স্প্যানিশ দলের অধিনায়ক সার্জিও র‍্যামোসের সাথে। ২০১৪ সালে কোপা-দেল-রে জিতে জয় উদযাপন করার সময় র‍্যামোসের হাত থেকে কোপা-দেল-রে ট্রফিটি ছিটকে টিম বাসের চাকার সামনে পড়ে যায়। বাস পিষে দেয় ট্রফিটিকে। যশস্বীর ঘটনায় অনেক ক্রীড়া অনুরাগীদের এই ঘটনাটি মনে পড়ে যায়। যদিও র‍্যামোস ভেঙেছিলেন দলগত ট্রফি। যশস্বী ভাঙলেন ব্যাক্তিগত ট্রফি। 

গোটা টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করায় যশস্বীকেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ঘোষিত করা হয়েছিল। একমাত্র জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বাদ দিয়ে ভারতের সব কটি ম্যাচেই অর্ধশতরানের গন্ডি পেরিয়েছিলেন এই তরুণ ভারতীয় ওপেনার। জাপান ওই ম্যাচে মাত্র ৪১ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল। ওই রান তাড়া করতে নেমে বিনা উইকেটে খুইয়ে ভারত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। সেই ম্যাচেও ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন যশস্বী। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি শতরানের ইনিংসও খেলেন তিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে বোলিংও করেছেন তিনি। বল হাতে টুর্নামেন্টে তিন উইকেট পেয়েছেন তিনি। 

গোটা টুর্নামেন্টে ৪ টি অর্ধশতক এবং একটি শতরান মিলিয়ে মোট ৪০০ রান করেছেন যশস্বী। ভারতের অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন তিনি দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। তার আগে রয়েছেন ভারতের সিনিয়র জাতীয় দলের ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ২০০৪ সালের অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপে তার সংগ্রহ ছিল ৫০৫ রান। বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ খেলা তাকে বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স করতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন যশস্বী। তিনি স্বীকার করেছেন, ওই সিরিজ খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কিভাবে খেলতে হয় সেই সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা গড়ে উঠেছিল তার। সেই অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যতে সাহায্য করছে।